আইনি জটিলতায় আটকে যাওয়া গত বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে আগামী কোরবানির ঈদের আগে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে। পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেনগুলোর শিক্ষার্থীরাও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ পাবে এবং কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা পাবে ২০ শতাংশ। খবর বিডিনিউজের।
জুনিয়র, দাখিল ও এবতেদায়ী বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে অর্থাৎ আগামী কোরবানির ঈদের আগেই আমরা প্রশ্নপত্র তৈরি করে এবং তাদের পড়ালেখার সুযোগ দিয়ে গত বছরের বৃত্তি পরীক্ষাটি আমরা এ বছরে নেব।
প্রাথমিকের বৃত্তির জন্য মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবেন বলে তুলে ধরেন তিনি। এহছানুল হক মিলন বলেন, মোট মেধাবৃত্তি বা ট্যালেন্টপুলের সংখ্যা ৩৩ হাজার, এর মধ্যে বেসরকারি প্রাথমিকের জন্য সাড়ে ৫ হাজার। আর সাধারণ বৃত্তির সংখ্যা হল সাড়ে ৪৯ হাজার। সরকারি ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৪১ হাজার ২৫০টি ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড ভিত্তিক দেওয়া হবে। বেসরকারি ২০ শতাংশ অর্থাৎ ৮ হাজার ২৫০ উপজেলা ভিত্তিক দেওয়া হবে। প্রতি ইউনিয়নে ৫টি করে সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হবে, যা পাবে দুইজন বালক ও তিনজন বালিকা। আর প্রতি ইউনিয়নে মেধাবৃত্তি পাবে একজন। তিনি বলেন, এটি হচ্ছে আমাদের আপাতত পরিকল্পনা।
একসময় প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও ২০০৯ সালে তা বন্ধ করে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু করা হয়। এ পাবলিক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হত। তবে করোনাভাইরাস মহামারীর জেরে ২০২০ সালে এ পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করা হয়।
বন্ধ হয়ে যাওয়ার ১৩ বছর পর ২০২২ সালে ডিসেম্বরে ফের পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। ওই ফলাফলের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত ৮২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছর থেকে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ওই বছরের শেষে এই পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। এ অবস্থায় প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ওঠে।
শিক্ষামন্ত্রীর বলেন, গত বছরের প্রাথমিক স্তরের বৃত্তি পরীক্ষাটি সরকারি শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রাইভেট, বেসরকারি অর্থাৎ কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বিধায় একটি মামলা হয়েছিল এবং মামলার আদেশক্রমে…এবং আমরাও ভেবেছি যে তাদের (কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী) বাদ দিয়ে… তারা একই দেশের ছাত্র–ছাত্রী, সাংবিধানিক অধিকার তাদের রয়েছে। অতএব এটা বাদ দেওয়া যায় না। সেই চিন্তা থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা কিন্ডারগার্টেনকেও ইনক্লুড করব।
একই শিক্ষা ব্যবস্থা হওয়ায় একই প্রশ্নে এই বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের আসার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, সেই কারণে আমরা ৮০ শতাংশ বৃত্তি আমরা দিয়ে দেব সরকারি ছাত্র–ছাত্রীদের। আর ২০ শতাংশ আমরা দিয়ে দেব বেসরকারি অর্থাৎ কিন্ডারগার্টেনের (শিক্ষার্থীদের)।
কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থদের বেশিরভাগ শহরকেন্দ্রিক মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, সেক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা কিছুটা ব্যতিক্রম হলেও, আমরা চাই যে তাদের মধ্যে বিভেদটা আইডেন্টিফাই করা, সেই জন্যই আমরা একই প্রশ্নে নিচ্ছি। বর্তমানে মেধাবৃত্তি বা ট্যালেন্টপুলে এককালীন ২২৫ টাকা এবং মাসিক ৩০০ টাকা। আর সাধারণ বৃত্তি এককালীন ২২৫ টাকা এবং মাসিক হারও সমপরিমাণ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে বৃত্তি বাড়ানোর চিন্তা করবেন তারা। আগামী বছরে সেই ব্যাপারে তাদের ভাবনা রয়েছে।










