আজিজ নগর বনবিভাগের বুক চিরে সড়ক নির্মাণ

জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার শঙ্কা

পেকুয়া প্রতিনিধি | রবিবার , ৮ মার্চ, ২০২৬ at ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

আজিজ নগর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিটের সংরক্ষিত বনের বুক চিরে সড়ক নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, কম গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পরও প্রভাবশালীদের সুবিধা দিতে বনের মাঝ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) এর সমন্বয়ক এবং ‘চুনতি রক্ষায় আমরা’ এর আহ্বায়ক পরিবেশকর্মী সানজিদা রহমান বলেন, আজিজ নগর বনবিটের ভেতর দিয়ে এলজিইডির রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গভীর উদ্বেগের বিষয়। একটি বনাঞ্চলের মূল কাজই হল জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা। কিন্তু বনভূমির মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করলে বনবিভাগ খণ্ডিত হয়, বন্যপ্রাণীর চলাচল ব্যাহত হয় এবং মানব অনুপ্রবেশ বেড়ে যাওয়ার ফলে অবৈধ গাছকাটা, শিকার ও ভূমি দখলের ঝুঁকি বাড়ে। প্রকৃতি রক্ষা করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আহ্বানউন্নয়নের নামে বন ধ্বংস নয়, বরং প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক।

এলজিইডির তথ্যমতে, চট্টগ্রামকঙবাজার মহাসড়কের আজিজ নগর স্টেশনের পশ্চিম দিক থেকে নুসরার টেক পর্যন্ত এ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের ফান্ড থেকে। সড়কটির কার্যাদেশ পায় মেসার্স এম এস আমিন এন্টারপ্রাইজ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এ সড়কের আশপাশে চলাচলের জন্য আরও বেশ কয়েকটি সড়ক রয়েছে। নির্মাণাধীন সড়কের আশেপাশে বনবিভাগের জবরদখলকৃত জায়গায় বিচ্ছিন্ন কয়েকটি বসতি দেখা যায়। বন বিভাগের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছাড়াই এলজিইডি সড়ক নির্মাণ শুরু করেছে বলে দাবি করেন নগর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসিফ মিয়া। তিনি বলেন, রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি কাটার কাজ শুরু হলে আমরা বাধা দিয়েছি। কিন্তু বাধা উপেক্ষা করে মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে। এভাবে বনের মধ্য দিয়ে রাস্তা করার কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা নুর জাহান বলেন, ওই এলাকায় রাস্তা হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। তিনি আরো বলেন, ভূমিদস্যুদের থাবায় শত শত একর বনাঞ্চল ধ্বংস হয়েছে। এর ওপর এভাবে সংরক্ষিত বনের বুক চিরে রাস্তা তৈরি করা হলে নির্বিচারে বনাঞ্চল উজাড় হবে। পাশাপাশি বনভূমি জবরদখল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চুনতী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, সড়কটি নির্মাণের বিষয়ে জানার সাথে সাথে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করেছি এবং অনুরোধ করেছি প্রকল্পটি বন্ধ করার জন্য। বন ও বন্যপ্রাণীর কথা মাথায় রেখে আমরা সড়ক নির্মাণে বাধা দিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা এলজিইডি তাদের প্রকল্প বাতিল করবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, এ ধরনের একটি খবর আমার কাছে এসেছে। যদিও এটি আমি এখানে যোগদানের আগের প্রকল্প। যতটুকু জানতে পেরেছি সেখানে আগে থেকে একটি ইটের সড়ক ছিল। এরপরও আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখব।

এলজিইডির চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মাত্রই চকরিয়ায় যোগদান করেছি। এ ব্যাপারে অবগত নই। জেনে নিয়ে আপনাকে সঠিক তথ্য দিতে পারব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনেপালের নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর কাছে ধরাশায়ী কেপি শর্মা অলি
পরবর্তী নিবন্ধমাটির নিচে পানির ট্যাংকে ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুত