আগুনে ‘স্বপ্ন’ পুড়ল ঝুট ব্যবসায়ী মোবারকের

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ১০ ডিসেম্বর, ২০২১ at ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ

বৃহস্পতিবার দুুপুর ১২টা। আতুরার ডিপোতে আগুনে পুড়ে যাওয়া গোডাউনের বাইরে অঝোর ধারায় চোখের জল ফেলছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত ঝুট ব্যবসায়ী মোবারক আলী। কাঁদতে কাঁদতে কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলছিলেন তিনি। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ঝুট কাপড়ের ব্যবসা করে আসছিলেন বলে দৈনিক আজাদীকে জানান মোবারক। শুরু থেকে ছোট ছোট লটে গার্মেন্টস ঝুট কেনাবেচার ব্যবসা করে আসছেন মোবারক আলী। সময়ের ব্যবধানে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ধীরে ধীরে বেড়েছে ব্যবসার পুঁজিও। এই ঝুট কাপড়ের ব্যবসা করেই সুখী ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন মোবারক। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে আতুরার ডিপোতে গোডাউনে লাগা আগুনে সবকিছুর সাথে সুন্দর ভবিষ্যতের ‘স্বপ্ন’ও পুড়ে গেছে মোবারকের।
বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টায় আগুন লাগলেও দুপুরেও জ্বলছিল আগুন। গোডাউনের ভেতরে বাইরে আগুনে পোড়া কাপড়ের স্তুপে দাঁড়িয়ে গোডাউনের আগুন নেভানোর কাজ করছিলেন ফায়ার ফাইটাররা। ঝুঁকিপূর্ণ নড়েবড়ে গোডাউনে আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল ফায়ার ফাইটারদের। একপাশে আগুন নেভানোর কাজ করছিলেন ফায়ার ফাইটাররা, অন্যদিকে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন মোবারক। মোবারকের কান্নায় আশেপাশের অন্যরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে দৌঁড়ে এসে দেখি একটি গোডাউনের এক কোনায় আগুন। তখন আস্তে আস্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ছিল। আমার গোডাউনের কিছু পলিথিন বের করার চেষ্টা করছিলাম, তখন দেখি চোখের পলকে আমার গোডাউনেও আগুন ধরে গেছে।’
মোবারক বলেন, ‘আমার গুদামটির ভাড়া মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। তিন মাসের ভাড়া অগ্রিম দিছি। এ গোডাউন আগে অন্য মালিকের ছিল। এখন এস আলম কোম্পানি থেকে ভাড়া নিছি। আমি এই গোডাউনে সবার আগের ভাড়াটিয়া। ২০-২২ বছর ধরে এখানে আছি। একটু একটু করতে করতে এই পর্যন্ত আসছি।’ ব্যবসায় পুঁজির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লেবারদের দিয়ে দিনে কাজ করিয়ে, রাতে আমি একা একা মাল (ঝুট কাপড়) স্টাইক (স্তর করে সাজানো) দিছি। লেবার দিইনি, দুই টাকা বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। যাতে বউ পোলাপান নিয়ে সুখে থাকতে পারি। আমি জীবনে যতটুকু পরিশ্রম করেছি, কোনো মানুষ অতটুকু করে না। আল্লাহ মাবুদ দেখেছেন।’
সংসারের বিষয়ে জানতে চাইলে মোবারক বলেন, ‘আমি পাঁচ বোনের এক ভাই। পাঁচ বোন বিয়ে দিয়েছি। আমার সংসারে দুই ছেলে এক মেয়ে। তিনজনই মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে। বড় ছেলে হেফজ পড়ছে।’
নিজের আর কোনো সম্পদ নেই জানিয়ে মোবারক বলেন, ‘১০ টাকার সম্পদও করি নাই, একাউন্টও (ব্যাংক হিসাব) করি নাই, কোনো ডিপিএস করি নাই। সৎভাবে চলেছি, আল্লাহর কাছে চেয়েছি সবসময়। এখন আমার সবই চলে (পুড়ে) গেছে। আল্লাহ আমার কপালে রাখছে, এই ক্ষত আমি সারাতে পারবো না।’
আগুনে তার ২৯ লাখ টাকার সব মালামাল পুড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগের মালামাল বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর কয়েকদিন আগেই ২৯ লাখ টাকার মাল এনেছি, এরমধ্যে ১৩ লাখ টাকার কর্জ (দেনা) রয়েছে।’ গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়, আতুরার ডিপোতে ২৫-২৬ বছর ধরে বসবাস করছেন জানিয়ে মোবারক বলেন, একসময় দিন মজুরের কাজ করতাম। ধীরে ধীরে অল্প অল্প গার্মেন্টস ঝুটের ব্যবসা করে এতটুকু (আজকের অবস্থানে) এসেছি। সারাজীবনের সঞ্চয় আজ সব পুড়ে গেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমুরাদের অশ্লীল বক্তব্যের ৯৬টি লিংক সরানো হয়েছে
পরবর্তী নিবন্ধদেশ ছাড়লেন মুরাদ গন্তব্য কানাডা