আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায় হামের প্রাদুর্ভাব : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

| মঙ্গলবার , ৭ এপ্রিল, ২০২৬ at ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ভুল ব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার’ কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেছেন, হামরুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে হওয়ার পর সাড়ে পাঁচ বছর আর হয়নি, যদিও এমন ক্যাম্পেইন প্রতি চার বছর পর হওয়ার কথা। ফলে নতুন জন্ম নেওয়া শিশুসহ অন্যরা হামের টিকা আওতার বাইরে থেকে যায়, যারা এখন হামে আক্রান্ত হচ্ছে। অতীতের সরকারগুলোর সম্পূর্ণ ভুল ব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার কারণে সরকারগুলো বলতে ফ্যাসিস্ট সরকার ও সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ইঙ্গিত করছি। তাদের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। খবর বিডিনিউজের।

মন্ত্রী বলেন, টিকা কেনা ও সংগ্রহে পূর্ববর্তী সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে মজুদ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে হামের টিকাসহ আরও ছয় ধরনের টিকার অভাব তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ২৯ মার্চ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশে গত আট বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি। সংসদে আখতার হোসেন সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে এর সঠিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

নোটিশে আখতার হোসেন বলেন, গত তিন সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫ এর বেশি, নিশ্চিত মৃত্যু ২০ জন। হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন গত ৮ বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি। এটা সঠিক তথ্য কিনা, সেটা নিয়ে হামের টিকা প্রদানকারী মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের উৎকণ্ঠা বা ভিন্নমত খেয়াল করছি। সেক্ষেত্রে কেন হামের টিকা দেওয়া হয়নি, তা আমাদের অবাক করে।

হাসপাতালে প্রস্তুতির ঘাটতির কথা তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, হামের চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন প্রয়োজন হলেও জেলাউপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালসহ বড় হাসপাতালেও সে ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে সংকটের কথা বেশি সামনে এসেছে। সেখানে আইসিইউ ও এনআইসিইউ সংকটও রয়েছে। দেশে হাম প্রতিরোধী টিকা সাধারণত নয় মাস বয়স থেকে দেওয়া হয়, কিন্তু এখন ছয় মাস বয়সি শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। কেন এই পরিবর্তন হচ্ছে, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সেখানে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সি সব শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। প্রথম দিনেই ৩০টি উপজেলায় ৭৬ হাজারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা ৯৬ শতাংশ সাফল্য। হাসপাতালের প্রস্তুতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজশাহীতে আরও ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পাশাপাশি আইসিডিডিআর,বি এর মাধ্যমে ৩০০ টাকা ব্যয়ে উদ্ভাবিত নতুন অঙিজেন প্রবাহ সিস্টেম ব্যবহার করে ফুসফুসে অঙিজেন দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে নতুন টিকা কেনা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাম মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এ খাতে ঋণ ও অনুদান পাওয়ার আশা করছে সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সম্পূরক প্রশ্নে আখতার হোসেন মাঠপর্যায়ে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বলেন, কাগজেকলমে বরাদ্দ থাকলেও সাধারণ মানুষ হাসপাতালে আইসোলেশন বা আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছে না। স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ অব্যয়িত থেকে যায়। ২০২৪২৫ অর্থবছরেও ১১ হাজার কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব হয়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএমএফএস প্রতারণা ঠেকাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার
পরবর্তী নিবন্ধমো. সামসুদ্দীন আহম্মদ চৌধুরী