জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কমিটির প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালী এবং আইনত অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে নিজেকেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি দাবি করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার মতে, নির্বাচিত পরিচালক পর্ষদের বিলুপ্তি এবং তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ‘অ্যাড–হক কমিটি গঠন একটি ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান।’ আমিনুলের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদকে এনএসসি ভেঙে দেওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি তোলার পাশাপাশি আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। নিজেকে তিনি ‘যথাযথভাবে’ নির্বাচিত বিসিবি সভাপতি দাবি করেন এবং এনএসসির কমিটির তদন্তকে ‘বিদ্বেষপ্রসূত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি যে, ২০২৬ সালের ৫ই এপ্রিল দাখিল করা প্রতিবেদনটি একটি ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালী এবং আইনত অগ্রহণযোগ্য দলিল, যার আইন বা বিসিবির গঠনতন্ত্রের দৃষ্টিতে কোনো ভিত্তি নেই।’ গত বিসিবি নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের দুর্নীতি, কারচুপি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে’ অস্বীকার করেন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক।
এনএসসির কমিটির প্রতিবেদনকে বাতিল দাবি করে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করে আমিনুল বলেন, আইসিসির বিধিও ভঙ্গ করা হয়েছে এখানে। তাই বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। ‘নির্বাচিত পরিচালক পর্ষদের কথিত বিলুপ্তি এবং তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ‘অ্যাড–হক কমিটি’ চাপিয়ে দেওয়া একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থান। এই পদক্ষেপটি অবৈধ, বিসিবি গঠনতন্ত্রে এখতিয়ার বহির্ভূত এবং সরকারি হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত আইসিসির নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন। এনএসসি অধ্যাদেশে সংজ্ঞায়িত চরম পরিস্থিতি ব্যতীত কোনো নির্বাচিত সংস্থাকে বিলুপ্ত করার ক্ষমতা এনএসসির নেই, যার কোনোটিই এখানে বিদ্যমান নেই। ‘অ্যাড–হক কমিটি’ একটি অবৈধ সত্তা। এর কর্তৃত্বকে আমরা স্বীকৃতি দিই না এবং আইসিসিকে অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং এই অবৈধ সংস্থাকে কাজ করতে না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাই আমরা।’
এই পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং দেশের ক্রিকেটে আঁধার ঘনিয়ে আসবে বলে মনে করেন আমিনুল। ক্রিকেট বোর্ডের এই অস্থিরতায় নতুন ক্রিকেটার তুলে আনার কাজ ব্যাহত হবে বলেও সতর্ক করে দেন ৫৮ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ‘উপসংহারে’ তিনি আবার আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন ও অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করেন। সবশেষে নিজের স্বাক্ষরের ওপরে নিজেই মোটা অক্ষরে লেখায় দাবি করেছেন, “হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম বুলবুলই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি থাকবেন।”













