আইসিই’র বিরুদ্ধে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

মিনিয়াপোলিসে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

| রবিবার , ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা থেকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন এজেন্টদের প্রত্যাহারের দাবিতে মিনিয়াপোলিসসহ পুরো দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালিত হয়েছে। অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশে শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়া থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে রাজপথে নেমে আসে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন মেট্রো সার্জ এর আওতায় মিনিয়াপোলিসে বর্তমানে ৩,০০০ ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন রয়েছেন, যা স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর তুলনায় পাঁচগুণ বেশি। এই অপারেশন মেট্রো সার্জ ও অভিবাসন ও শুল্ক নীতি প্রয়োগ (আইসিই) কর্মকর্তাদের মারমুখী কৌশলের বিরুদ্ধে শুক্রবার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি তাপমাত্রায় মিনিয়াপোলিসে শহরতলীতে জড়ো হন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। এদের মধ্যে ছোট শিশুকে নিয়ে আসা পরিবার যেমন দেখা গেছে, তেমনি ছিলেন প্রবীণ দম্পতি এবং তরুণ অ্যাক্টিভিস্টরা। খবর বিডিনিউজের।

নো আইসিই লেখা সোয়েটশার্ট ও হাতে অভিবাসন সংস্থাটিকে শহর ছেড়ে যেতে বলা প্ল্যাকার্ড বহন করা কটিয়া কাগান নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, তিনি দুই রুশ ইহুদি অভিবাসীর সন্তান যারা নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। আমি বেরিয়ে এসেছি কারণ আমার বাবামা যে আমেরিকান ড্রিমের খোঁজে এখানে এসেছিলেন, আমি তার জন্য লড়তে যাচ্ছি, বলেছেন তিনি। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৬৫ বছর বয়সী মেডিটেশন কোচ কিম অবৈধ অভিবাসী ধরতে ট্রাম্পের অভিযানকে নাগরিকদের ওপর ফেডারেল সরকারের একটি পুরোদস্তুর ফ্যাসিবাদী হামলা আখ্যা দিয়েছেন। চলতি মাসে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক আলেকজান্ডার প্রেটি এবং রেনি গুড মারা গেছেন যে যে এলাকায় তার কাছেই স্থানীয় স্কুলগুলোর প্রায় ৫০ শিক্ষক ও স্কুলকর্মীরা মিছিল করেছেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, সামরিক কায়দায় শহরে টহল দেওয়া এবং নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো অবিলম্বে বন্ধ হতে হবে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই অভিযান সীমিত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মিনেসোটায় বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানিয়ে রক স্টার ব্রুস স্প্রিংস্টিন তার নতুন গান ‘স্ট্রিট অব মিনিয়াপলিস’ পরিবেশন করেন। বিক্ষোভ কেবল মিনেসোটাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, নো ওয়ার্ক, নো স্কুল, নো শপিং, স্টপ ফান্ডিং আইসিই স্লোগানে ৪৬টি অঙ্গরাজ্যের অন্তত ২৫০ বিক্ষোভ হচ্ছে বলে আয়োজকরা ধারণা দিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, লস এঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটনের মতো বড় বড় শহরগুলোতেও ব্যাপক জনসমাগম দেখা গেছে। বিক্ষোভের উত্তাপের মধ্যেই ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের মিনিয়াপোলিস ফিল্ড অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জ্যারাড স্মিথকে তার পদ থেকে সরিয়ে ওয়াশিংটনে বদলি করা হয়েছে। ট্রাম্পের অপারেশ মেট্রো সার্জ অভিযানে অংশ নেওয়া এফবিআইয়ের এ ফিল্ড অফিসই প্রেটিকে গুলির ঘটনা এবং গির্জায় এক বিক্ষোভের ঘটনা তদন্ত করছিল।

জনমত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে : বিক্ষোভের মুখেও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম এর প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, সীমান্তে যে বিপর্যয় তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন, তা এখন ঠিক হয়ে গেছে। তবে রয়টার্স/ইপসোসএর সামপ্রতিক এক জরিপ বলছে, ফেডারেল এজেন্টদের মারমুখী আচরণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জনপ্রিয়তা তার দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অচল করে দেওয়া বিক্ষোভের কারণে অরোরা, কলোরাডো এবং অ্যারিজোনার টুসনসহ অনেক এলাকায় কয়েক ডজন স্কুল বন্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপাকিস্তানে সন্দেহভাজন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমন্বিত হামলায় ৮ পুলিশ নিহত
পরবর্তী নিবন্ধমীরসরাইয়ে ‎ট্রাকভর্তি চোরাই রড আটক