রাঙ্গুনিয়ার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, আগে যখন আপনাদের কাছে আসতাম, তখন শুধু অনুরোধ করতে পারতাম। এখন আর অনুরোধ নয়, চাঁদাবাজদের ধরার জন্য সরাসরি নির্দেশ থাকবে। অনেকে হয়তো এতে নারাজ হবেন, বলবেন–এত কঠোর হওয়া ঠিক নয়। কিন্তু এখন শক্ত না হলে আপনারা আমাদের পচিয়ে ফেলবেন–সেই সুযোগ আমি দেব না ।
গত মঙ্গলবার বিকেলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়ন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে রানীরহাট স্কুল মাঠে আয়োজিত গণইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন রাণীরহাট আল আমিন হামেদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম আল কাদেরী। প্রধান ওয়ায়েজ ছিলেন ইসলামপুর মাদ্রাসা জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী এম.এন নুরুল আলম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন বাহার, উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরী।
হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, যারা এতদিন আপনাদের কষ্ট দিয়েছে, মিথ্যা মামলা দিয়েছে, তাদের বিচার করা হবে। এই মিথ্যা মামলার ব্যবসা আর চলতে দেওয়া হবে না। কারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা আমাদের চিহ্নিত।
এই ব্যক্তিদের এখন কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সময় এসেছে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের রাঙ্গুনিয়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা এখন থেকে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেখানে আইন সবার জন্য সমান, সেই রাঙ্গুনিয়ায় আইনের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না ।
দলের নেতাকর্মী ও দুষ্কৃতকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, আমার আব্বা বলতেন–সিরাতুল মুস্তাকিম অর্থাৎ সঠিক পথে চলা। ইনশাআল্লাহ, আমি সেই পথে চলার সাহস রাখি। কেউ যদি মনে করেন হাতে সময় কম, যা করার এখনই করে ফেলতে হবে, তবে ক্ষমা করবেন! আমি অত কাঁচা খেলোয়াড় নই! সবাইকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আপনারা ১৯ থেকে ২০ হলে প্রশাসন হাতে চুড়ি পরে বসে নেই। তাদের হাতে লাঠি ও অস্ত্র আছে, আপনাদের ধরার ব্যবস্থা তারাই করবে।
সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া ইসলামপুর প্রবাসী ইকবাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ন্যায়বিচারের রাঙ্গুনিয়া চেয়েছি। আমাদের একজন প্রিয় ভাই বর্তমানে কারাগারে। এটি আওয়ামী লীগের আমল হলে হয়তো তাকে মায়ের জানাজা পড়ার সুযোগও দেওয়া হতো না। কিন্তু এখন বাংলাদেশ ও রাঙ্গুনিয়া নতুন ধারায় চলছে। যারা নির্দোষ, তারা শীঘ্রই আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। তবে যারা প্রকৃত দোষী, তাদের আর ক্ষমা করা হবে না ।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট করার যে ওয়াদা আমরা করেছি, তা আগের মতো হবে না; আমরা কাজ করে দেখাবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা শুধু আমার পাশে থাকবেন এবং আমাকে সাহস দেবেন।












