স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচনের আগে সারা দেশে ৫৩ হাজার ৩৬৭ অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, মামলা এবং ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে ৩৩ হাজার ৫১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে শুরু হওয়া চলমান অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২ এর আওতায় ১৯ হাজার ৮৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খবর বাসসের।
তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ১৯১ রাউন্ড গুলি, ৭২২টি কার্তুজ, ৬৯৪টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টার শেল, বারুদ এবং বোমা তৈরির উপকরণ। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকার নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা প্রভাবিত করতে পারে এমন যে–কোনো ধরনের অপকর্ম বা কার্যকলাপ কঠোরভাবে দমন করবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টাকারী যে কারও বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের অবাধে চলাফেরা রোধ করতে এবং অবৈধ ও লুটপাটকৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য দেশব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে, চেকপোস্ট, টহল এবং বিশেষ অভিযান বৃদ্ধি করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।
তিনি আরও বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ইনশাল্লাহ জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হব বলে প্রত্যাশা করছি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদার করতে নজরদারির জন্য ২৫ হাজার বডি–ওর্ন ক্যামেরা এবং ৪১৮টি ড্রোন থাকবে। পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন, যা সঠিক সময়ে মনিটরিং এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করবে। এছাড়াও ৪২, ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করার জন্য অভূতপূর্ব প্রযুক্তিগত পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় আকাশপথে নজরদারির জন্য বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মোট ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। ৪১৮টি ড্রোনের মধ্যে সেনাবাহিনী ২০০টি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১০০টি, বাংলাদেশ পুলিশ ৫০টি, কোস্টগার্ড ২০টি এবং নৌবাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ১৬টি করে ব্যবহার করবে।
তিনি আরও বলেন, বডি ক্যামেরা, ড্রোন এবং একটি কেন্দ্রীভূত নিরাপত্তা অ্যাপের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আমাদের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) দ্বারা তৈরি নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই অ্যাপটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, রিটার্নিং এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে সংযুক্ত থাকবে, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যে–কোনো ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হবে।












