আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, এটা হচ্ছে আমার পরিকল্পনা

‘জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতায়’ বিজয়ীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তারেক রহমান

| রবিবার , ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিএই দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে চান তারেক রহমান। গতকাল শনিবার দুপুরে ‘আমরা ভাবনা বাংলাদেশ’ শীর্ষক ‘জাতীয় রিলমেকিং প্রতিযোগিতায়’ বিজয়ীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বিএনপি চেয়ারম্যান এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রথম একটা বিষয় নিশ্চিত করতে হবেআইনশৃঙ্খলা। অর্থাৎ মানুষ যেটা বলছে, আপনি যেটা বলছেন, যেন সবাই রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারি, এটা নিশ্চিত করতে হবে। আর দুর্নীতি আমাদেরকে যেভাবেই হোক, এটাকে অ্যাড্রেস করতে হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন রকম দুর্নীতি আছে, বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে। এই দুটো জিনিসকে যদি আমরা একটু ভালো করে অ্যাড্রেস করতে পারি, অন্য সমস্যাগুলো অনেকাংশে সমাধান হয়ে আসবে। এটা হচ্ছে আমার প্ল্যান। খবর বিডিনিউজের।

গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে এই সাক্ষাত আয়োজন করা হয়। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। জাতীয় রিলমেকিং প্রতিযোগিতায় ১০ বিজয়ী হলেন, তৌফিকুর রহমান, রাফায়েতুল আহমেদ রাবিত, শেখ রিফাত মাহমুদ, ফাতিমা আয়াত, মো. ইসরাফিল, শাজেদুর রহমান, শেখ মো. ইকরাতুল ইসলাম, যারিন নাজনীন, মো. রিফাত হাসান ও রমেসা আনজুম রোশমী।

বিজয়ীরা তাদের নানা জিজ্ঞাসা তারেক রহমানকে করেন এবং তিনি সেগুলোর বিষয়ে খোলামেলা জবাব দেন। ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবে, স্বামী হারা নারীরা কি ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, এমন প্রশ্নও আসে। জবাবে তারেক রহমান বলেন, সিংগেল মাদার ব্রাইড, যারা বিভিন্ন রকম সমস্যার মধ্যে আছেন, স্বামী ছেড়ে গেছেন, দেখুন, আপনি যদি দেখেন, আমার ধারণা আছে, বাংলাদেশ গভর্নমেন্টের এই সোশাল সেফটির আওতায় ১৩৮টি প্রজেক্ট চালু হয়েছে। কিন্তু এগুলো ঠিক নাই। আপনার রিসোর্স নষ্ট হচ্ছে। একজন তিনটা সাপোর্ট পাচ্ছে, আরেকজন একটা পাচ্ছে না। আমরা এই জিনিসটাকে একটু অর্গানাইজ করতে চাইছি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে। আমরা এটাকে ইউনিভার্সালির জন্য রেখেছি। উদাহরণ হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যেমন একজন কৃষকের স্ত্রীও পাবেন, একজন ভ্যান চালকের স্ত্রী, উনিও পাবেন, আরেকজন অফিশিয়াল, তার ওয়াইফও পাবেন।

অনলাইনে নানা নিপীড়নের বিষয়ে মিডিয়া কথা বলে না, কেউ কথা বলেন না আইনে কি আছে তাও মানুষ জানে না। এই বিষয়ে তার নিজের জিজ্ঞাসাগুলোর জবাব কি হতে পারে? জবাবে তারেক রহমান বলেন, জিনিসটাকে আমরা এভাবে দেখি। আমাদের শিক্ষা নিয়ে যে রিলটা বানিয়েছেন আপনারা, ওখানে কিন্তু দুইটা দিক আছে। ওখানে আপনারা বলেছেন যে, প্রাথমিক স্তর থেকে থেকে আমরা কতগুলো কাজ করছি।

দেখেন, আমি একটা ঘটনা বলি। ঘটনাটা কি? আমার পরিচিত, আমাদের পরিচিত একটা ফ্যামিলি। তো ওদের একটা ছেলে আছে ১২/১৩ বয়স। এটা আমি আরো পাঁচ ছয় বছর আগের কথা বলছি। একদিন ওর বাবার সাথে গাড়িতে উঠেছেকোনো কারণে ওর বাবা সিট বেল্ট লাগায়নি। ছেলে বলছে বাবা তুমি সিট বেল্ট লাগাও। বলে যে, না অল রাইট। ছেলেটা বললো, তুমি সিট বেল্ট না লাগালে টিচার বলেছেন, আমি নেমে যাব। অর্থাৎ দেখেন এটাকে আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে, এই যে সামাজিক মূল্যবোধএই জিনিসগুলো আমাদের স্কুলে শেখাতে হবে এবং সেই জন্যই কিন্তু আমরা প্রাথমিক শিক্ষায় জোর দিতে চাচ্ছি বেশি। জোরটা স্কুলভবননতুন নতুন তিন, চার, পাঁচতলা স্কুলভবন বানানো নয়। বরং ওই বাজেটটা দিয়ে আমরা আমাদের প্রাথমিক শিক্ষদের আরও যোগ্য করতে চাচ্ছি, প্রশিক্ষণ দিতে চাচ্ছি। যেই প্রশিক্ষণটার মধ্যে একাডেমিক প্রশিক্ষণ থাকবে, একই সাথে সামাজিক এবং ধর্মীয় যে মূল্যবোধগুলো আছে এই জিনিসগুলো বাচ্চাদেরকে শেখাব।

এ সময় তারেক রহমান তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতে যেতে বিবিসির একটা প্রোগ্রাম শোনার স্মৃতিচারণ করেন। সে অনুষ্ঠানটি ছিল সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে বিবিসির করা গবেষণার ফল নিয়ে। তারা দুইটি গ্রুপ করে বাচ্চা ও অভিভাবকদের সামাজিক মূল্যবোধ শিখিয়েছে। তিনি বলেন, যখন রিসার্চটা শেষ হল, রেজাল্ট যেটা পাওয়া গেল, যেখানে বাচ্চাদেরকে শিখিয়েছে ওখানে দেখা গেল ওই পরিবারে প্রয়োগটা ভাল। আর যেখানে অভিভাবকদের শিখিয়েছে সেখানে তাদের একটু গা ছাড়া ভাব। তার মানে ব্যাপারটা হচ্ছে যে, বাচ্চাদেরকে যখন শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে এটা ভালো এটা মন্দ বা এটা এইভাবে করতে হবে, ওটা ওইভাবে করতে হবে, সকালে উঠে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। এরকম জিনিসগুলো যখন শিখিয়ে দিচ্ছে। বাবা মা যখন করছে না বাচ্চারা কম্পেইন করছে। না এটা এভাবে করতে হবে। আমি শিখে এসেছি। তো আমাদেরও এই বিষয়গুলো এরকমভাবে করতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসুযোগ দিলে চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে
পরবর্তী নিবন্ধশর্তসাপেক্ষে সাকিবকে জাতীয় দলে বিবেচনার কথা জানাল বিসিবি