আইআইইউসি’র ৬ষ্ঠ সমাবর্তন

জ্ঞানকে প্রজ্ঞার সাথে এবং দক্ষতাকে নৈতিকতার আলোকে পরিচালিত করতে হবে : ড. ফায়েজ

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি | রবিবার , ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:২০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ বলেছেন, সমাবর্তন একটি একাডেমিক ঐতিহ্য। এটি জাতীয় তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী দেশের ভবিষ্যতের বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। এমন কী নেতৃত্বের পরবর্তী প্রজন্মের, পেশাজীবী ও উদ্ভাবকদেরও। এই সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েট ও তাদের পরিবারের জন্য একটি গৌরবময় মুহূর্ত। পাশাপাশি একটি নতুন ও বৃহত্তর দায়িত্বেরও সংকেত। যেখানে জ্ঞানকে প্রজ্ঞার সাথে প্রয়োগ করতে হবে, দক্ষতাকে নৈতিকতার আলোকে পরিচালিত হতে হবে। গতকাল শনিবার সকালে কুমিরাস্থ স্থায়ী ক্যাম্পাসে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ৬ষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর এবং রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসাবে সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ এই অভিমত ব্যক্ত করেন। এতে সমাবর্তন বক্তা হিসাবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকিব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইআইইউসির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। বক্তব্য রাখেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম। মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান। ধন্যবাদ জ্ঞাপক বক্তব্য রাখেন আইআইইউসির ট্রেজারার এবং সমাবর্তনের কোকনভেনার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। গত এক দশকে উচ্চশিক্ষা একটি বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। যা বিপুলসংখ্যক যুবককে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহণ করে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষমতা দান করছে। বিশ্ববিদ্যালয় একটি কেন্দ্রের মতই সেবা দান করে যেখানে জ্ঞানের সৃষ্টি এবং প্রয়োগ হয়।

 

সমাবর্তন বক্তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকিব বলেন, সমাবর্তন কেবল একটি ডিগ্রির স্বীকৃতি নয় বরং এটি জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন থেকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেবল পাঠ্যবই বা স্মৃতির নয়, বরং তাদের প্রজ্ঞা, বিচারবুদ্ধি এবং নৈতিক মূল্যবোধের। বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং অনিশ্চিত। একদিকে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিঙ, ডেটা মাইনিং ইত্যাদির জয়জয়কার, অন্যদিকে নৈতিক অবক্ষয়, বিভাজন এবং সংঘাত। তিনি উপস্থিত সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জ্ঞান যখন নৈতিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তখন তা ধ্বংসাত্মক হতে পারে। বর্তমান বিশ্বে কেবল দক্ষ পেশার নয়, বরং নৈতিক চিন্তাবিদ এবং নীতিবান নেতৃত্ব প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম কেবল চাকরিপ্রার্থী তৈরি করে না বরং এমন মানুষ তৈরি করতে চায় যারা বিশ্ব সভ্যতায় অবদান রাখবে। গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে সমাবর্তন বক্তা প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকিব বলেন, কাজের ক্ষেত্রে সর্বদা ইসলামের মূলনীতির আলোকে ন্যায়বিচার, শ্রেষ্ঠত্ব, আমানতদারি এবং দয়া বজায় রাখতে হবে। একজন নীতিবান ইঞ্জিনিয়ার বা অর্থনীতিবি সমাজ পরিবর্তনে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারেন, তা মনে রাখতে হবে।

বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের উচ্চ শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। যার ফলে এ দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের অকাতরে বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমানোর প্রবণতা অনেকাংশে কমে গেছে। আউআইইউসি এ ক্ষেত্রে প্রথম সারির কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম। নৈতিক ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি সৎ, যোগ্য ও চৌকষ প্রজন্ম তৈরীর মহান লক্ষ্যে নিবিড় ভাবে কাজ করে যাচ্ছে আইআইইউসি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকর্মবিরতিতে বন্দরে অচলাবস্থা
পরবর্তী নিবন্ধজিম্বাবুয়েকে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপ শেষ বাংলাদেশের