জয় দিয়ে ব্যাটার উসমান খাওয়াজার ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিদায় দিল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। অ্যাশেজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৪–১ ব্যবধানে জিতল অসিরা। প্রথম তিন টেস্ট জিতে আগেভাগে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছিল অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ টেস্ট জিতে সিরিজে ব্যবধান কমায় ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ টেস্ট জিতে অ্যাশেজের মধুর সমাপ্তি টানল অসিরা। সিরিজের শেষ টেস্টে খেলতে নামার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন খাওয়াজা। বিদায়ী টেস্টের দুই ইনিংসে যথাক্রমে– ৪৯ বলে ১৭ এবং ৭ বলে ৬ রান করে আউট হন খাওয়াজা। দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হবার পর দর্শক–সতীর্থ এবং প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা সিক্ত হন তিনি। ব্যাট উঁচিয়ে মাঠে সিজদা দিয়ে শেষবারের মত মাঠ ছাড়েন খাওয়াজা। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথম ইনিংসে ১৮৩ রানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে চতুর্থ দিন শেষে ৮ উইকেটে ৩০২ রান করেছিল ইংল্যান্ড। ২ উইকেট ১১৯ রানে এগিয়ে ছিল ইংলিশরা। জ্যাকব বেথেল ১৪২ ও ম্যাথু পটস শূন্য হাতে দিন শেষ করেন। পঞ্চম ও শেষ দিন টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত দেড়শ রানের স্বাদ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের শিকার হন বেথেল। ১৫টি চারে ২৬৫ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির ইনিংসে ১৫৪ রান করেন তিনি। দলীয় ৩২৮ রানে বেথেল ফেরার পর শেষ উইকেটে ১৪ রান যোগ করেন পটস ও জশ টাং। শেষ পর্যন্ত ৩৪২ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। ফলে টেস্ট জয়ের জন্য ১৬০ রানের টার্গেট পায় অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন স্টার্ক ও বো ওয়েবস্টার। জয়ের জন্য ১৬০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৬১ রানের সূচনা করেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারাল্ড। ৭১ রানের মধ্যে অসি দুই ওপেনারকে বিদায় দেন ইংল্যান্ড পেসার টাং। প্রথম ইনিংসে ১৬৩ রান করা হেড এবার ২৯ রান করেন। ওয়েদারাল্ডের ব্যাট থেকে আসে ৩৪ রান। এরপর মানার্স লাবুশেন ৩৭, অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ১২ ও খাজা ৬ রানে আউট হলে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ১২১ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় তারা। তবে ষষ্ঠ উইকেটে ৪০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন উইকেটরক্ষক অ্যালেঙ ক্যারি ও ক্যামেরুন গ্রিন। ক্যারি ১৬ ও গ্রিন ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। ইংল্যান্ডের টাং ৪২ রানে ৩ উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরির সুবাদে ম্যাচ সেরা হন হেড। বল হাতে ৩১ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ১৫৬ রান করে সিরিজ সেরা হন স্টার্ক।












