অ্যান কারসন-এর তিনটি কবিতা

ভাষান্তর: জয়দেব কর | শুক্রবার , ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

ডালভাঙার শব্দশহর

ওদের মুখগুলো আমার

ছুরি মনে হয়েছিল।

তারা তাক করে রেখেছিল

সেগুলো আমার দিকে,

আর ছিল অপেক্ষায়।

শিকারি সে–ই, যে এতটা নিবিড় শুনতে পায় যে,

শিকারই টেনে নেয় হাতিয়ার তার হাত থেকে,

আর বিদ্ধ করে নিজের বুক।

মুখ্য ও গৌণ নিয়ে দু–চার কথা

মুখ্য বিষয়গুলো হলো হাওয়া, অশুভ, ভালো একটি যুদ্ধঘোড়া,

পদান্বয়ী অব্যয়, অফুরন্ত ভালোবাসা, মানুষের নিজেদের

রাজা নির্বাচনের উপায়। গৌণ বিষয়ের মধ্যে আছে ধুলো–ময়লা,

দর্শনের নানান ধারার নাম, মনের ভাব আর

কোনও ভাব না থাকা, ঘড়ির ঠিক সময়। সব মিলিয়ে গৌণের

চেয়ে মুখ্য বিষয়ই বেশি, তবে গৌণ বিষয়ও এখানে

যতটা লিখেছি, তার চেয়ে বেশি–কিন্তু সেসব

গুনে গুনে লিখতে গেলে মন দমে যায়। যখন ভাবি,

তুমি এই লেখা পড়ছ, আমি চাই না তুমি বন্দি হয়ে পড়ো–

কাচে আবৃত তারের জাল তোমাকে বিচ্ছিন্ন রখুক

তোমার নিজের জীবন থেকে কোনও এক ইলেকট্রার মতো ।

ঈশ্বরের অরণ্য পেরোনোর পথে এক শহর

আমাকে বলো

কখনও দেখেছ এমন অরণ্য! এত গভীর!

প্রতিটি গাছ কি একেকটি শব্দে

তোমার হৃদয় থামিয়ে দেয়?

একবার বলিভিয়ার আকাশে

প্রবল গভীর এক মেঘ দেখেছিলাম;

পাহাড়েরা ভয়ে গুটিয়ে ছিল;

তুমি কি কখনও এমন পলকে ভেতরে তাকাও,

নিমিষেই দেখে ফেলো গোপন কথাটিকে–

শব্দের ভেতর আরেক শব্দ?

যেমন এক শীতের দুপুরে পরিত্যক্ত রেলের বগিতে

দেখেছিলাম সেই শব্দ, যার অর্থ ‘ঈশ্বরের অরণ্য’।

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্বাভাবিক
পরবর্তী নিবন্ধধ্রুপদি সাহিত্য এবং অ্যান কারসন