অহংকারের অতলান্তে জীবনের অনন্ত সত্য!

রাজু আহমেদ | সোমবার , ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ

ত্বকের টানটান যে আভা হাজারো মানুষকে মুগ্ধ করে আকর্ষণ করছে, মাত্র বছর দশেক বাদে সেই চামড়ার আর কাউকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা রাখে না। রূপের জোয়ারে একদিন ভাটি আসে। যে যৌবন নারী/পুরুষকে ডেস্পারেট করেছে তাও একদিন কোথায় হারিয়ে যাবে! বয়সের একটা সময় আমি নারী নাকি পুরুষ, সেই বোধ পর্যন্ত থাকবে না।

যে ক্ষমতার কারণে লাখো লোক বেঘোরে পিছনে পিছনে ঘুরছে সেই ক্ষমতা হারালে কেউ ফিরেও তাকাবে না। যে মানুষটি যৌবনে ফোন পর্যন্ত রিসিভ করেনি তার ফোনও একদিন অন্যরা রিসিভ করার প্রয়োজন মনে করবে না। যে ঠেকিয়ে রেখেছিল সেও দুয়ারে দুয়ারে ঠেকে থাকবে। যে ঠকিয়েছিল সেও ঘাটে ঘাটে ঠকবে। এই বাস্তবতা মানতে হবে। অতীত মেনেছে, বর্তমান মানছে এবং ভবিষ্যতও মানবে।

কিছুই না থাকার মাঝেও কী টিকে থাকবে? ভালো আচরণ। উত্তম চরিত্র। আপনি কোন হালে থাকেন তাতে কিছুই আসে যায় না! কোনদিন যদি কাউকে উপকার করে থাকেন সে মনে রাখবে। যদি ভুলেও যায় তবে প্রকৃতি আপনার বদান্যতা ভুলবে না। সে আপনায় উজাড় করে দেবে। আপনি মরে, পঁচে মাটির সাথে মিশে নিঃশেষ হয়ে যাবেন তবুও দুনিয়ায় আপনার গুণগান ঘুরবে। আপনার আচরণ, আপনার রেখে যাওয়া ভালো কাজের আলো বিনিময়হীন যাবে না। একটা পাখি, বেওয়ারিশ কুকুরকেও যদি উপকার করেন তবে সেটারও হিস্যা পাবেন। বিশ্বাসীদের কাছে দুনিয়াতেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না।

জীবনে ভালো মানুষ হওয়া খুব জরুরি। যোগ্যতার কারণেও যদি অহংকার জন্ম নেয় তবে ঝেড়ে ফেলুন। কারো উপকারে না আসেন অন্তত কারো ক্ষতিতে যাতে আপনার নাম না জুড়ে থাকে। কাউকে ঠকালে, কারো অধিকার হরণ করলে কিংবা কাউকে ব্যথা দিলে চূড়ান্ত পরিণতিতে আপনার ভালো থাকার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নাই। জীবন দু’দিনের। আজ ঠকালে কাল আপনাকে ঠকতেই হবে। যত পারেন আলোর রেখা সৃষ্টি করে যান। অন্তরে প্রশান্তি ও পবিত্রতা নিয়ে মরণের মধ্যেও সুখ আছে।

জ্ঞান কিংবা সম্পদকোনকিছুর দম্ভই চিরস্থায়ী নয়। ফকিরের ফিকিরও শ্রেষ্ঠ হতে পারে যদি উদ্দেশ্য সৎ হয়। জীবনে মানুষ থাকা খুব জরুরি। ক্ষমতা পেয়ে হায়েনা হওয়ার পরিণতি ভালো নয়। রূপের দেমাগ, জ্ঞানের অহমিকা কিংবা গুণের দম্ভএসব সত্যিকারের যোগ্য মানুষেরা কখনোই করে না। তারা নিজেকে ছোট দেখাতে পছন্দ করে। যে নিজেকে সামান্য ভাবে সে বড় হওয়ার অসামান্য প্রতিভা ও সম্ভাবনা নিয়ে ঘোরে! যারা ভাবনাতেই নিজেকে বিশাল কিছুর অবয়ব দিয়ে রাখে তারা ক্ষুদ্র হওয়ার পথ তৈরি রাখে! জীবন যেখানে ক্ষণিকের সেখানে কীসব আলতুফালতু বিষয় নিয়ে বাহাদুরি বুদ্ধিমানের কাজ!

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাশেদ রউফ-এর অন্ত্যমিল
পরবর্তী নিবন্ধগল্পগুলো চন্দ্রনাথ পাহাড়ের নয়