অসচ্ছল মেধাবীরা হারিয়ে যায় অন্তরালে

রিপন সেন গুপ্ত | শুক্রবার , ৩ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ

পিতৃহীন শৈশব, দারিদ্র্যের বেড়াজালে না পাওয়ার চাহিদা, মায়ের কাছে বেড়ে ওঠা নীরব, বেদনার মৃণালএর। সাহায্য বিনা মায়ের সামান্য আয়ে আধ পেটে দিন শেষে মেধার প্রমাণ অকল্পনীয়। ছেড়া পোশাক শরীরে, মনে কখনো দাগ কাটেনি। শখের ওজন নিম্ন, শিক্ষার চাহিদা পৃথিবী তুল্য। স্বপ্নপ্রতিষ্ঠিত জীবনে অভাব বিনা প্রদীপের শিখা। নিজের বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণ মেধা, শীর্ষ স্থান অধিকারী স্কুল ও শিক্ষার খরচ শিক্ষক ও সরকারের মানবতায়। গুটিকয়েক মিত্র মুখের মাঝে শত্রু ও হেয় করার সংখ্যা বেশি। শান্ত স্বভাবে জটিলতা ভাটা, নিঃশব্দ মনে অভিমান জোয়ার সমান। বাধ সাধে স্কুল পেরিয়ে কলেজে। শীর্ষ মেধায় উচ্চ কলেজে ভর্তি, সহপাঠীদের আভিজাত্য তার বিপরীত। তাতে কি? লক্ষ্য পূরণের চিন্তা আরেক ধাপ এগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে। আজ মায়ের বার্ধক্য, আয়ের চলন্ত চাকা স্থবির প্রায়। এবার তার খেলার পালা, শুরুতে কিছু ছাত্র পাঠে খাদ্যের যোগান নিশ্চিতে মায়ের চিকিৎসা চিন্তার ভাজ। পৃথিবী জুড়ে নিজ যোগ্যতায় চাকরি চিন্তা ডুমুরফুল, তাই আয়ের মাত্রা বাড়াতে নিজ অবহেলায় দিন রাত পড়ানো মৃণাল আজ নিজের অজান্তে গোপন রোগে আক্রান্ত। অসুস্থ মা ছেলের জীবন যুদ্ধ বন্ধে আয়ের হাত বাড়ালেও স্বার্থপর পৃথিবী তাকে পেছনে রেখে দেয়। বয়স তিরিশের কাছে, অন্যরা আজ বৈবাহিক জীবনে, তার চিন্তা জীবন গড়ার। মায়ের স্বপ্ন দ্বারপ্রান্তে, হঠাৎ এক দুপুরে প্রচন্ড রোদে তার নিথর দেহ রাস্তার এক কোণে। ভিড়ের সাহায্য হাসপাতালে নেওয়া ডাক্তার বক্তব্য, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ। আধুনিকতার ছোঁয়া মেধার মূল্য আজ অর্থ দাপটে। সংখ্যাগরিষ্ঠ হিংসা, লালসায় ভরা অযোগ্যদের শাসনে আজ অসচ্ছল মেধাবীর বলিদান। এভাবে কত শত মৃণাল আছে সারা বিশ্ব কোণে, কে করে সাহায্য বা রাখে তাদের খোঁজ?

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৃতী হাফেজদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হোক
পরবর্তী নিবন্ধজীবনের মূল্য