অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে বিনিয়োগে জোর, বাড়ানো হবে ট্যাক্স

পতেঙ্গায় সরকারি হাসপাতালের জমি পরিদর্শনে অর্থমন্ত্রী

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৮:২০ পূর্বাহ্ণ

নগরের পতেঙ্গায় হচ্ছে সরকারি হাসপাতাল। এর মধ্য দিয়ে পূরণ হতে চলেছে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় পিছিয়ে থাকা পতেঙ্গাবাসীর হাসপাতাল নির্মাণের দাবি। বানৌজা উল্কার আবাদ অঞ্চল২ এর পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন মুসলিমাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমিতে এ হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবিত হাসপাতালটি হবে জেনারেল হসপিটাল, যেখানে দেয়া হবে বিশেষায়িত সেবাও। হাসপাতালের সাথে হবে নার্সিং ও টেকনোলজি ইনস্টিটিউটও। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরকারি হাসপাতাল নির্মাণে প্রস্তাবিত পৃথক দুটি জায়গা পরিদর্শন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, আমরা যত তাড়াতাড়ি পারি হাসপাতালটা করতে চাচ্ছি।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রাম১১ (পতেঙ্গা, বন্দর, সদরঘাট, ইপিজেড এবং ডবলমুরিং থানার একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে ১১টি প্রতিশ্রুতি দেন। এর মধ্যে প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিল আধুনিক ও জনবান্ধব চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রসঙ্গে। এতে বলা হয়চট্টগ্রাম১১ আসনে ১২শ শয্যা বিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা, জরুরি বিভাগ, বিশেষায়িত চিকিৎসা ও আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এদিকে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রতিশ্রুতি পূরণে উদ্যোগ নেন আমীর খসরু। এর অংশ হিসেবে গতকাল বিকেলে প্রস্তাবিত হাসপাতালের জায়গা পরিদর্শনে আসেন। অর্থমন্ত্রী নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত মোট ১৪ দশমিক ২১৯০ একর এবং অতিরিক্ত ২ দশমিক ৭ একর জমি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এ সময় চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান জমির ভৌগোলিক অবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আশপাশের অবকাঠামোগত সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ সমপ্রসারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

পরিদর্শন শেষে আমীর খসরু সাংবাদিকদের বলেন, এই অঞ্চলে কোনো হাসপাতাল নেই। এই অঞ্চলের মানুষেরও দাবি আছে হাসপাতাল নির্মাণের। হাসপাতাল করার জন্য আমরা জায়গা দেখছি। এটাও একটা জায়গা (নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত)। আরো দুয়েকটি জায়গা আমরা দেখছি। বড় জায়গা লাগছে। যেখানে সুবিধা হয়। আমরা চাচ্ছি, যত তাড়াতাড়ি পারি হাসপাতালটা করার জন্য।

খসরু বলেন, একটা বড় হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সাথে নার্সিং ইনস্টিটিউট। টেকনোলজিস্টদের জন্য আরেকটা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে; এই খাতে দেশে এখনো যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এসময় সম্ভাব্য হাসপাতালটি জেনারেল নাকি বিশেষায়িত হবে জানতে চাইলে খসরু বলেন, জেনারেল হাসপাতাল হবে। এর মধ্যে বিশেষায়িত চিকিৎসাও থাকবে। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী স্লোগান ছিল ১১তে ১১ দফা। এটা ( হাসপাতাল নির্মাণ) ১ম দফা।

এদিকে পতেঙ্গা হাসপাতাল নির্র্মাণের উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, পতেঙ্গা, ইপিজেডে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। যে কোনো জরুরি চিকিৎসায় তাদের ছুটে আসতে হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পথের যানজট ও অন্যান্য দুর্ভোগ এড়িয়ে হাসপাতালে পৌঁছুতে পৌঁছুতে অনেক সময় রোগীর প্রাণহানিও ঘটে। প্রস্তাবিত হাসপাতালটি বাস্তবায়িত হলে পতেঙ্গা ও আশপাশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর চিকিৎসা অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে বাড়ানো হবে ট্যাক্স : দেশের অর্থনৈতিক সংকট দূরীকরণে ট্যাক্স (কর) এবং দেশিবিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু। একই সেঙ্েগ আগামী বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান তিনি।

অর্থনৈতিক সংকট দূরীকরণে সরকারের প্রায়োরিটি (অগ্রাধিকার) সম্পর্কে জানতে চাইলে খসরু বলেন, প্রায়োরিটি তো ট্যাক্স বাড়াতে হবে আমাদের, ট্যাক্স বাড়ানোর মাধ্যমে ইনভেস্টমেন্ট বাড়াতে হবে। দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে ইনভেস্টমেন্ট বাড়াতে হবে। এটার মাধ্যমেই একমাত্র আপনি ট্যাক্স বাড়াতে পারবেন।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান আমাদের আরেকটা কর্মসূচি। বিএনপির নির্বাচনী প্রোগ্রামের মধ্যে কর্মসংস্থান একটা বড় প্রোগ্রাম। সুতরাং বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান কোত্থেকে হবে? এজন্য আমরা জোর দিচ্ছি ইনভেস্টমেন্টের ওপর। দেশিবিদেশি ইনভেস্টমেন্টে জোর দিচ্ছি। আবারও বলছি, কর্মসংস্থান এটা আমাদের প্রায়োরিটি।

আগামী বাজেটে কী অগ্রাধিকার পাবে জানতে চাইলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কর্মসংস্থান দিয়েই শুরু হবে। এটা করার জন্য যা যা প্রয়োজন সেটা করা হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতেও বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। পতেঙ্গা মেরিন ড্রাইভ এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ সময়োপযোগী। চট্টগ্রামের চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপতেঙ্গা-ফৌজদারহাট রিং রোডের পাশে বিকল্প ফিডার রোড নির্মাণের পরামর্শ অর্থমন্ত্রীর
পরবর্তী নিবন্ধএকের পর এক ভূমিকম্প, চট্টগ্রামে শঙ্কা