অভিযুক্ত ৯ ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে বিপিএল নিলামের চূড়ান্ত তালিকা

স্পোর্টস ডেস্ক | রবিবার , ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ at ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ

বিপিএল নিলামের প্রাথমিক তালিকায় থাকা অন্তত ৯ ক্রিকেটার জায়গা পাননি চূড়ান্ত তালিকায়। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান জানান, বিসিবির ইন্টেগ্রিটি কমিটির প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের সুপারিশ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিপিএলের গত আসরে ফিক্সিংসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তাদেরকে নিলামের তালিকায় না রাখা নিয়ে গুঞ্জন চলছিল কিছুদিন ধরেই। সেটিই এবার বাস্তবে রূপ নিল। গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব শনিবার নিশ্চিত করেন অভিযুক্ত বেশ কজন ক্রিকেটারকে তালিকায় না থাকার কথা। ‘২৬ নভেম্বর যে নিলামের তালিকা করা হয়েছিল, সেখান থেকে ৯ জন ক্রিকেটার বাদ যাচ্ছে। আমি এখন দুর্নীতি দমন ইউনিটের অফিসে যাচ্ছি চূড়ান্ত তালিকায় স্বাক্ষর করতে। এই তালিকা আমরা নিজেরা পরিবর্তন করিনি। তদন্তের প্রতিবেদন মূল্যায়ন করেছে ইন্টেগ্রিটি কমিটি। প্রধান হিসাবে পুরো প্রক্রিয়া অ্যালেক্স মার্শালই পরিচালনা করেছেন, আমি শুধু স্বাক্ষর করব।’

প্রাথমিক তালিকা থেকে চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়া ক্রিকেটাররা হলেন এনামুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু , সানজামুল ইসলাম, নিহাদউজজামান, শফিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান, শিহাব জেমস ও মনির হাসান খান।

তাদের মধ্যে মনির হোসেন খান ও শিহাব জেমসের নাম দুটি দারুণ কৌতূহল জাগানিয়া। ঘরোয়া ক্রিকেটের একসময়ের নিয়মিত মুখ মনিরকে ২০২০ সালের পর বিপিএলে দেখা যায়নি। ৩৯ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার স্বীকৃত ক্রিকেটে তিনি সবশেষ খেলেছেন দেড় বছর আগে ঢাকা লিগে। জেমস গত বছর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব১৯ দলের হয়ে গত বছর জিতেছেন যুব এশিয়া কাপ। বিপিএলে এখনও অভিষেকই হয়নি ২০ বছর বয়সী ক্রিকেটারের। স্বীকৃত ক্রিকেটে স্রেফ তিনটি ম্যাচ খেলেছেন গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট বা স্বচ্ছ তথ্য মেলেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আমরা কিছু বলতে পারব না।’ বিসিবির সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, ঢাকা লিগে জেমসের একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল, যা ইন্টেগ্রিটি কমিটিতে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল। তবে সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিসিবির সহসভাপতি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য শাখাওয়াত হোসেন আগেই বলেছিলেন, সামনের আসরে যেন কোনো ধরনের ফিক্সিং বিতর্ক না তৈরি হয়, সে জন্য বিতর্কিত বা সন্দেহভাজন ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হবে না। এবার চূড়ান্ত তালিকায় সেটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে শেষ আসরের বিপিএল শেষে বিস্তৃত ফিক্সিং অভিযোগের পর গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে অন্তত ১৮১৯ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে নানা সময়ে জানা গেছে নানা সূত্রে। তাদের মধ্যে কিছু নাম এবার জানা গেল। অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন কর্মকর্তাদের নামও। তাদেরকে কোনো দলে রাখতে বিসিবির কাছ থেকে নির্দেশনা যাবে বলে জানা গেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজুনিয়র হকি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার বাংলাদেশের
পরবর্তী নিবন্ধরোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে শিরোপা জিতলো ব্রাদার্স ইউনিয়ন