রমজানে ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে প্রশাসন। পণ্যের মূল্য তালিকা না টাঙানো, ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ না করা এবং বেশি দামে পণ্য বিক্রয় করার দায়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে দেখা যাচ্ছে, প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর আবারও সেই আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা নিজেদের খেয়াল খুশিমতো দাম বাড়িয়ে পণ্য বিক্রি করছেন। রমজানের আগে একদিনের মধ্যে ব্রয়লার মুরগির দাম ৪০ টাকা বাড়িয়ে কেজি ২০০ টাকা বিক্রি করা হয়। পরে বাজার চাহিদা বুঝে আরো ২০ টাকা বাড়িয়ে কেজি ২২০ টাকায় বিক্রি করে খুচরা বিক্রেতারা। গতকাল সেই মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। অর্থাৎ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার উঠানামা করা হচ্ছে। একইভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে কম দামি খেজুরেরও। ১৮০ টাকা কেজির জাহেদী খেজুরের দাম কেজিতে ৬০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। এছাড়া নিম্ন মানের বস্তা খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকায়। অথচ চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যমতে–গত বছরের তুলনায় খেজুরের আমদানি বেড়েছে। তারপরেও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে খেজুরের দাম বৃদ্ধি করে ক্রেতাদের পকেট কাটছেন। সবজির বাজারেও বেহাল অবস্থা। প্রশাসনের অভিযানেও বাজারে দাম কমছে না। কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ ছুঁইছুঁই। ৬০ টাকার কমে কোনো সবজি নেই। মাছের বাজারও বাড়তি। একই অবস্থা মাংসের বাজারেও।
বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রমজান এলে নিত্যপণ্যের বাজারে ভর্তুকি দেয়। অর্ধেক মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হয়। অথচ আমাদের দেশে রমজান মাস মানে অতি মুনাফা করার মোক্ষম সময়।
আলী আহমদ নামের একজন দিনমজুর বলেন, রমজান আসার পর থেকে বাজারে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। রমজান মাসে ভালো মন্দ একটু খাবো, সেই সুযোগও পাচ্ছি না। সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০–২০ টাকা। একমাত্র দেখতেছি ডিমের দামই কম আছে। মুরগির দাম তো বেড়ে কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। ৬ জনের সংসার। সারাদিন যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চলে না। সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, প্রশাসনের অভিযানের পরেও আমাদের দেশে ভোগ্যপণ্যের বাজারে বলতে গেলে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ছে না। অভিযানের পর ব্যবসায়ীরা আবারও তাদের সেই চিরচেনা চরিত্রে ফিরে যাচ্ছে। আসলে আমাদের দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারে পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাইকারী থেকে খুচরা সবখানে একই অবস্থা। পাইকারীতে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে খুচরা বিক্রেতারা সাথে সাথে সেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। আবার যখন পাইকারীতে দাম কমে যায়, তারা খুচরা বিক্রেতারা বলেন, তাদের পণ্য বেশি দামে কেনা। এই সমস্যা থেকে সমাধান পেতে হলে প্রশাসনকে বাজার মনিটরিংয়ে আরো কড়াকড়ি করতে হবে না। জরিমানা বাড়াতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তবে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা হবে।










