পরিবারের অভিযোগ ২৬ জানুয়ারি ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় পাহাড়তলী এলাকার যুবলীগ নেতা বেলাল উদ্দীন জুয়েলকে। অপহরণের অভিযোগে আকবরশাহ থানায় সাধারণ ডায়েরিও করতে চেয়েছিলেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু কোনো আইনি পদক্ষেপ ছাড়াই গত শুক্রবার রাত তিনটার দিকে বেলালকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার ভাটিখাইন এলাকায় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে এলাকায় ফিরেই নবনির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসীমের সঙ্গে দেখা করে ছবি তোলেন বেলাল। প্রশ্ন উঠেছে, বেলাল অপহরণের শিকার হয়েছিলেন নাকি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। বেলালের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা গণমাধ্যমকে বলেন, গত শুক্রবার রাত তিনটার দিকে বেলালের নম্বর থেকে ফোন আসে। তখন সে (বেলাল) বলল, অপহরণকারীরা তাকে পটিয়ায় রাস্তায় ফেলে গেছে। ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি নিয়ে পটিয়া রওনা দিই।
শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বেলালের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা জানান, তার স্বামীর নামে কোনো মামলা নেই। নির্র্বাচনে তিনি ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর জহিরুল আলম জসিমের সমর্থক হিসেবে কাজ করেছিলেন।
ওই দিন বেলাল তার খালুর ফিরোজ শাহ কলোনির বাসায় ছিলেন। ভোররাত ৪টার দিকে র্যাবের পোশাক পরিহিত ৪টি গাড়িতে আসা আইনশৃক্সখলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন পতেঙ্গা র্যাব দপ্তরে এবং চান্দগাঁও র্যাব অফিসে, পরবর্তীতে ডিবি অফিসে গিয়েও তার কোনো খোঁজ পাননি কানিজ ফাতেমা। আকবর শাহ থানায় একটি জিডি করতে গেলেও থানা ২ দিন ধরে জিডি নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে গতকাল শনিবার রাতে জানতে চাইলে আকবর শাহ থানার ওসি জহির হোসেন আজাদীকে বলেন, বেলাল ফিরে আসার পর আমরা তার পরিবারের কাছে গিয়েছি। তিনি অসুস্থ বলে কথা বলতে চাননি। আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। ওসি আরো বলেন, ওর বিরুদ্ধে মামলা ছিল। এমনিতেই অনেক দিন থেকে তাকে দেখা যায়নি।
আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া প্রসঙ্গে ওসি বলেন, গত বুধবার সাধারণ ডায়েরি করার জন্য বেলালের পরিবারের লোকজন এসেছিলেন। কিন্তু ঘটনাটিতে মামলার উপাদান থাকায় ডায়েরি নিইনি। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা রাজি হননি। এখনো আমরা তাদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ চাচ্ছি।













