অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন চাই

| শনিবার , ১৪ মার্চ, ২০২৬ at ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। গত ৮ মার্চ নগরীর সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এটি একটি নিয়মিত বৈঠক। চট্টগ্রামে দ্রব্যমূল্যসহ অনেক বিষয় বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি প্রশাসন এবং বর্তমান সরকারের একটি সফলতা। তিনি বলেন, ঈদ পর্যন্ত এবং পরবর্তী সময়েও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে অপরাধকে জিরো টলারেন্সের মধ্যে এনে চট্টগ্রামকে নিরাপদ রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সভায় কিশোর গ্যাং দমনে টহল ও নজরদারি জোরদার করা, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং সড়কে বাজার বা দোকান বসানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ইটভাটা নিরুৎসাহিত করে পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান এবং রমজানজুড়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকরা বলেন, এক শ্রেণির মানুষ পুলিশ প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, মানবিক মূল্যবোধকোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বেড়ে গেছে। সামান্য কারণেই খুনের ঘটনা ঘটছে। সমাজ, পরিবার বা প্রতিবেশীর সুসম্পর্ক কমছে। তাঁরা বলেন, ‘দেশে বিচ্ছন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের বাইরে প্রতি বছর ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্রে প্রাণ দিতে হচ্ছে গড়ে ক’হাজার মানুষকে। সরকারি হিসাবে কম হলেও খুন হচ্ছেন বহু মানুষ। এ কেবল সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্যও বিপজ্জনক।

কেন বাড়ছে এমন অপরাধমূলক ঘটনা? বিশেষজ্ঞরা তার মূল কারণ হিসেবে বলছেন, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের অভাব, সম্পদের লোভ, বেকারত্ব, ভিনদেশী সংস্কৃতির প্রভাব, অনলাইন প্রযুক্তিতে পর্নোগ্রাফির প্রসার ও সহজলভ্যতা, বেপরোয়া জীবনযাপন, পাচার, কর্তৃত্বের বিরোধশত্রুতা, ব্যক্তি স্বার্থপরতা ইত্যাদি নেতিবাচক প্রভাবে সমাজের বিবেক বর্জিত কতিপয় নোংরা মস্তিষ্কের লোক নৃশংস আচরণে সম্পৃক্ত হচ্ছে। তাই এসব অপরাধ বা নৃশংসতা বন্ধ করতে হলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতার অভাব ও বিকৃত মানসিকতার কারণে এমন নির্মমতা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। পাশাপাশি মানসিক অস্থিরতা, স্বামীস্ত্রীর পরকীয়ার কুপ্রভাব ও মাদকাসক্তির কারণেও সর্বস্তরে এমন ঘটনা ঘটছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোনো দলমত নয়, অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। গ্যাংভিত্তিক বড় বড় সন্ত্রাসীঅপরাধী জামিনে বেরিয়ে গিয়ে তারাও নিজের গ্রুপ বা দল বড় করছে, প্রভাব বাড়াচ্ছে। এসব গ্যাং লিডারের গ্রুপে উঠতি সন্ত্রাসী বা ছিনতাইকারীডাকাতরাও যুক্ত হচ্ছে। এ বিষয়গুলোতে বাড়তি নজর দিতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে যেন কোনো বিচারবহির্ভূত অপরাধ সংঘটিত না হয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা যেন না ঘটে। পুলিশের মনোবল শতভাগ বৃদ্ধি করতে হবে, তা না হলে তাদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবাও পাওয়া যাবে না। ঢাকাচট্টগ্রামের মতো বাণিজ্যিক হাবগুলোয় দ্রুত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ বাহিনীকে গ্রহণ করতে হবে। যে যার মতো করে লোক উঠিয়ে নেওয়ার প্রবণতা রোধ করতে হবে। আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে