আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ও নতুন ব্রিজ এলাকায় যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। গতকাল রোববার নগরীর সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জেলা আইন–শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, মোহাম্মদ এনামুল হক, সরওয়ার জামাল নিজাম, জসীম উদ্দিন আহমেদ, শাহজাহান চৌধুরী ও মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, নৌবাহিনী, এনএসআইসহ আইনশৃঙ্খলা–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। সভায় বিগত মাসের অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করা হয় এবং আসন্ন ঈদুল ফিতর সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চোরাচালান দমন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ বালু উত্তোলন ও জমির টপসয়েল কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যানজট নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ও নতুন ব্রিজ এলাকায় যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, যে–কোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এটি একটি নিয়মিত বৈঠক। চট্টগ্রামে দ্রব্যমূল্যসহ অনেক বিষয় বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি প্রশাসন এবং বর্তমান সরকারের একটি সফলতা। তিনি বলেন, ঈদ পর্যন্ত এবং পরবর্তী সময়েও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে অপরাধকে জিরো টলারেন্সের মধ্যে এনে চট্টগ্রামকে নিরাপদ রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
আইন–শৃক্সখলা বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় কিশোর গ্যাং দমনে টহল ও নজরদারি জোরদার করা, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং সড়কে বাজার বা দোকান বসানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ইটভাটা নিরুৎসাহিত করে পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান এবং রমজানজুড়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।









