বঙ্গোপসাগর ভিত্তিক জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান আজ বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সকালে বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি, বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু এমপি, বাঁশখালীর আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি, কক্সবাজার-২ এর আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ বিপিএম (বার), র্যাব ফোর্সেস অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার বিপিএম, পিএসসি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ (এনডিসি), সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর (পিপিএম), চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন বিপিএম (বার), জলদস্যু বাইশ্যা বাহিনীর প্রধান মো. আবদুল হাকিম বাইশ্যা ও নেছার মাঝি।
র্যাব হেডকোয়ার্টারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুজয় সরকারের সঞ্চালনায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ১১টি জলদস্যু বাহিনীর ৩৪ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেন।
প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা, রোহিঙ্গাদের স্থান দিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্বের বুকে অনন্য নেতার অবস্থানে স্থান করে নিয়ে আজ মাদার অভ হিউম্যানিটি থেকে শুরু করে বেশ কিছু পুরস্কার অর্জন করেছেন। অর্থনৈতিক স্বনির্ভর হচ্ছে দেশ, যারা অপরাধ করবে তারা আইনশৃংখলা বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পাবে না। আর যারা অপরাধ ও জলদস্যুতা ছেড়ে আলোর পথে আসবে তাদের কর্মসংস্থান ও মাথা উঁচু করে বাঁচার সুযোগ দেওয়া হবে। যারা বিগত দিনে আত্মসমর্পণ করেছে তাদের হত্যা ও ধর্ষণ মামলা ছাড়া অপরাপর মামলাগুলো থেকে কীভাবে মুক্তি দেওয়া যায় সেই ব্যাপারে সহযোগিতা করা হবে।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আইনশৃংখলা বাহিনীকে মাদক, সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে মাঠে পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ড সহ অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনী কাজ করছে। অপরাধের পথ ছেড়ে আলোর পথে আসুন মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার সৃষ্টি করুন।”
আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতায় নিয়োজিত বাইশ্যা বাহিনী, খলিল বাহিনী, রমিজ বাহিনী, বাদশা বাহিনী, জিয়া বাহিনী, কালাবদা বাহিনী, ফুতুক বাহিনী, বাদল বাহিনী, দিদার বাহিনী, কাদের বাহিনী, নাছির বাহিনীর সদস্য।
বাঁশখালী, চকরিয়া, মহেষখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া এলাকার আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা হলো মো. আবদুল হাকিম বাইশ্যা ডাকাত (৫২), মো. আহামদ উল্লাহ (৪২) মো. আবদুল গফুর (৪৭), মো. ইউনুছ (৫১), মো. নিজাম উদ্দিন ভান্ডারী (৪০), মো. মাহমুদ আলী প্রকাশ ভেট্টা (৪৫), আব্দুর রহিম (৬৪), আব্দু শুক্কুর (২৮), মো. ফেরদৌস (৫২), রেজাউল করিম (৪০), কামাল উদ্দিন (৪৭), মো. মামুন মিয়া (২৭), আবু বক্কর সিদ্দিকী (৩১), মো. বেলাল মিয়া (৩০), আবু বক্কর বাইশ্যা (২৯), সেলিম মিয়া (৩৪), আবদুল হাকিম বাক্কু (৩৫), রশিদ মিয়া (৩৬), আবদুল গফুর (২৯), মো. পারভেজ (৩৩), সাহাদাত হোসেন দোয়েল (৪১), ইউনুছ (৫৬), মো. ওবায়দুল্লাহ (৩৬), মো. ইসমাঈল (২৪), মো. তৌহিদ ইসলাম (৩৪), সাহাবুদ্দিন টুনু (৩২), দিদারুল ইসলাম পুতিক্যা (৩২), মো. জসিম উদ্দিন (২৬), মিজানুর রহমান (২৩), মো. মনজুর আলম (৪২), আমির হোসেন(৪৮), মো. সাকের (৪০), মো. নাছির (৫১), ইউনুছ (৪২)।
আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের কাছ থেকে দেশী-বিদেশী ৯০টি অস্ত্র, ২ হাজার ৫৬ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
সেগুলোর মধ্যে এলজি ৪১টি, থ্রি কোয়ার্টার এলজি ১৯টি, বিদেশী পিস্তল ১টি, রিভলবার ১টি, এসবিবিএল ৫টি, ডিবিবিএল বন্দুক ১টি, ওয়ান শুটারগান ১টি, এসবিবিএল শুটারগান ১টি, পাইপগান ১টি, এয়ারগান ১টি, ১২ বোরের গুলি ৮৮৬ রাউন্ড, ২২ বোর রাইফেলের গুলি ১১৭০ রাউন্ড।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ বিপিএম (বার) বলেন, “শেখ হাসিনার উন্নয়নশীল বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাসী, অপরাধী ও জলদস্যু থাকতে পারবে না। যারা অপরাধ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে তাদের কর্মসংস্থান করা হবে। চট্টগ্রামে বর্তমানে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও বিদেশী বিনিয়োগ হচ্ছে তাতে এটা কয়েকটা সিঙ্গাপুরে পরিণত হবে।”
তিনি যে বা যারা গুজব ছড়ায় তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো বিপদে পুলিশের হেল্পলাইন ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে প্রকৃত তথ্য জানিয়ে সহযোগিতা পাবার আহ্বান জানান।












