অন্যকে সম্মান করুন, আপনার জীবনে মঙ্গল অনায়াসে আসবে

শরণংকর বড়ুয়া | মঙ্গলবার , ৭ এপ্রিল, ২০২৬ at ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

অন্যকে ছোট করে দেখা কখনো ঠিক না। প্রত্যেকে যার যার সামর্থ্যে সেই মহান। প্রত্যেকের মান সম্মান আছে। সে ছোট হোক আর বড় হোক। গরীব আর পয়সাওয়ালা প্রত্যেকে তার নিজ নিজ অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। তাই ছোট করে দেখা আদৌ ঠিক না। একে অপরকে প্রয়োজন চলার পথে। যদি তাই না হতো, মানুষের মনুষত্ববোধ হারিয়ে যেত। সমাজ ভেঙে যেত। সমাজটা নরকে পরিণত হতো। সবাই সব কিছু পারে না। কাউকে অবমূল্যায়ন করা সমীচিন নয়। না জানলে বা না চিনলে কিন্তু সময়ে সব চিনিয়ে দেয়। কিছু শিক্ষিত মুর্খ অজ্ঞানী অহংকারী লোকের আচার আচরণে প্রতিনিয়ত দেশ সমাজ কলুষিত। মনে করেন, আমার এক মামা শতবর্ষী, এখন চশমা ছাড়া বই খবরের কাগজ পড়েন। কিন্তু তাঁর ছেলে মনে করেন ৩০ বছর বয়সে চশমা পড়ে। সেতো মামার সন্তান। একজন নিরোগ সুস্থ দেহের মানুষ। চশমা পড়ে বলে তাকে কি অযোগ্য বা ঘৃণা করতে হবে। তার ভিতর কি কিছুই নেই ভাবতে হবে? কিছু নির্বোধ অহংকারী মানুষ আছে অন্যকে ছোট করে। বড় কথা বলে, কখনও কোনও অনুশোচনা করে না বরং আনন্দ পায়। অজ্ঞানতার জন্য গর্ববোধ করে। শিক্ষা ও ব্যবহার হলো সভ্যতার রূপায়ন। মুর্খতা এবং অহংকারের কারণে সমাজে শিক্ষা আজ লজ্জিত ও মর্মাহত। অর্থ, ব্যবহার আর ইমোশনালে সব ভুলে যায়। মনে রাখতে হবে আমরা সবাই এই পৃথিবীতে শুধু দুইদিনের মেহমান। তাই এই ক্ষণিকের অবস্থানের কথা স্মরণ রেখে একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা সম্মান সম্পর্ক বজায় রাখা নিতান্ত প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে জীবন কখনও কারো জন্য থেমে থাকে না। একরাশ দায়িত্ব অসম্পূর্ণ রেখে দুইদিনের পৃথিবী থেকে সবাইকে সব কিছু ফেলে যেতে হবে! কে কতটুকু সম্মান কিনলো, ফুলের তোড়া পেলো সেটা বড় কথা নয়। কে কতটুকু সমাজকে দিল, সাধারণ মানুষকে সম্মান করলো কিনা, কার কতটুকু প্রিয় হলো এবং পরপারে নেওয়ার কাজ কতটুকু করলো, সেটাই বড় কথা। তাই কাউকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য নয়, অহংকার ত্যাগ করে সঠিক ধর্মজ্ঞানে পথ চলুন। আপনার জীবনে মানসম্মান মঙ্গল অনায়াসে আসবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভালোবাসা মরে না
পরবর্তী নিবন্ধপ্রাথমিক শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস উদ্যোগ: সদিচ্ছা ও জনপ্রত্যাশা