অন্তর্স্রোতের অনুকূলে যাত্রা : ভাবনার রূপান্তরেই সাফল্যের আহ্বান

সরিৎ চৌধুরী | শুক্রবার , ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ

জগৎ বা সংসারকে বদলে দেওয়ার দায়িত্ব এককভাবে আপনার বা আমার নয়। মহাবিশ্ব তার নিজস্ব ছন্দে প্রবাহিত নীরবে আমাদের অনুভব করে, আমাদের ভাবনার ভাষা বোঝে এবং প্রতিটি অন্তর্গত ইচ্ছার প্রতিধ্বনি গ্রহণ করে। আমাদের আসল কাজ হলো সেই অন্তনিহিত স্রোতের অনুকূলে নিজেকে প্রবাহিত করা, জগতের উৎসবে সাড়া দেওয়া, প্রতিরোধ নয় সম্মতির পথে হাঁটা।

মানুষের মন এক চলমান নদী। সেখানে প্রতিনিয়ত চিন্তার উদয় ও ব্যয় ঘটে। কিন্তু এই চিন্তার প্যাটার্ন পরিবর্তনের ক্ষমতা আমাদের হাতেই। আমরা আমাদের চিন্তার প্রভূ; ভাবনার নিয়ন্ত্রণই জীবনের দিকনির্দেশ নির্ধারণ করে। মহাবিশ্ব কোনো কঠিন শাসক নয় সে আমাদের অন্তরাত্মার আদেশ পালনকারী এক সহৃদয় সত্তা। তাই মনের ভেতরে যে ভাষায় আমরা কথা বলি, যে ছবি আঁকি, সেটাই আমাদের বাস্তবতার রূপরেখা হয়ে ওঠে।

মনের বাতাবরণে কখনো কখনো অনাকাঙ্‌ক্িষত চিন্তা বা ছবি ভেসে ওঠে। সেগুলোকে দমন করতে নয়, প্রভাবিত না হয়ে আসতেযেতে দিতে শিখতে হবে। মনের আকাশে মেঘ যেমন ভাসে আবার মিলিয়ে যায়, তেমনি ভাবনাকেও নিরাসক্ত দৃষ্টিতে বিদায় জানাতে পারলে মন হালকা হয়। যদি পারি, তবে ধীরে ধীরে নিজেকে নিরাসক্ত করার অনুশীলন শুরু করা উচিত যেখানে আসক্তি শূন্যে এসে স্থির হয়।

এই শূন্যতা কোনো অভাব নয়; বরং সম্ভাবনার দ্বার। তখনই নতুন ভাবনার জন্ম হয়। সেই নতুন ভাবনায় আমরা যে সাফল্য চাই, তাকে শুধু কল্পনা নয় অনুভব করতে হবে। অনুভূতির গভীরে ডুবে বলুন, ‘আমি পেয়েছি।’ প্রাপ্তির আনন্দে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন, যেন তা ইতিমধ্যেই আপনার। কারণ কৃতজ্ঞ মনেই মহাবিশ্ব সবচেয়ে দ্রুত সাড়া দেয়। এখানেই ভাবনার রূপান্তর, আর সেখান থেকেই জীবনের বাস্তবতা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআসুন শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই
পরবর্তী নিবন্ধসাধুমিত্রা বড়ুয়া : নিভৃতচারী মহীয়সী শিক্ষক