ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা স্পষ্ট করেছে। তারা বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতি এবং শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স আইজাবস রাজধানীতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মিশনের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলতে প্রথমেই বোঝায় বাংলাদেশের সব সামাজিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তির যেমন নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর অংশগ্রহণ। খবর বাসসের।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান পর্যবেক্ষক জানান, অংশগ্রহণমূলক বলতে তারা মূলত বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতিকে বোঝাচ্ছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অংশগ্রহণ ইঙ্গিত করবে বাংলাদেশের নাগরিকরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে আইজাবস বলেন, এটি নাগরিকদের অংশগ্রহণের সামগ্রিক সক্ষমতা এবং তাদের ভোট ন্যায্য ও স্বচ্ছভাবে গণনা হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের সম্ভাব্য ভয়ভীতি প্রদর্শন নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, এটি মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা দেশের ৬৪টি জেলায় পর্যবেক্ষক পাঠাব এবং তাদের বিশেষভাবে এ বিষয়ে নজর রাখতে বলা হবে। নির্বাচনের আগে বা পরে সহিংসতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে এটি একটি সমস্যা। তবে, আমি এখনো আশা করি এবং প্রত্যাশা করি বাংলাদেশিরা বিষয়টি মোকাবিলা করবে। নির্বাচনের গুরুত্ব তারা বুঝতে পারছে। তিনি আরো বলেন, সব অংশীজনই সহিংসতামুক্ত বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছেন। প্রধান পর্যবেক্ষক আরো জানান, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণে মিশনের বিশেষ ইউনিট রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ ঢাকায় অবস্থানরত ইউরোপীয় কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।












