অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের প্রতিবেদন সংসদে, বাতিল হচ্ছে ১৬টি

৯৮ টি হুবহু, ১৫টি সংশোধন করে নতুন বিল হিসেবে আনার প্রস্তাব

| শুক্রবার , ৩ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ২০টিকে এখনই আইনে রূপ না দেওয়ার সুপারিশ করেছে এ বিষয়ে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি। আর ৯৮টি অধ্যাদেশে কোনো পরিবর্তন না এনে হুবহু এবং ১৫টি সংশোধন করে বিল আকারে তোলার সুপারিশ করে বৃহস্পতিবার সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখনই যে ২০টি অধ্যাদেশ বিল আকারে তোলা হবে না সেগুলোর মধ্যে চারটি বাতিল ও হেফাজতের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ কমিটির এ প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেছেন, আগামী সোমবার থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা পর্যায়ক্রমে ১১৩টি বিল সংসদে উত্থাপন করবেন। খবর বাংলানিউজ ও বিডিনিউজের।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ যাচাইবাছাইয়ের প্রতিবেদন উত্থাপন করেন বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন। এর আগে, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পরপর তিনটি বৈঠক করে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইবাছাই শেষে এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। কমিটির সুপারিশে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি উত্থাপিত আকারেই পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে এবং চারটি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। আর বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ পরবর্তীতে যাচাইবাছাইয়ের মাধ্যমে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর তা পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে তা বাতিল হয়ে যায়। সেই হিসেবে ওই ১৬টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে তামাদি বা বাতিল (ল্যাপস) হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এর আলোকে বিল উত্থাপন ও পাস না করলে এগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

যে ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে : . গণভোট অধ্যাদেশ২০২৫, . জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ২০২৫, . রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ২০২৫, . রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৫, . মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৫, . কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৫, . আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৫, . জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৫, . গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ২০২৫, ১০. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৫, ১১. দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৫, ১২. বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৬, ১৩. বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৬, ১৪. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৫, ১৫. মাইক্রো ফাইনান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ২০২৬ এবং ১৬. তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৬।

জামায়াত এমপিদের নোট অব ডিসেন্ট : সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামাদির তালিকায় যাওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ১২টিতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়েছেন ওই কমিটিতে থাকা জামায়াতে ইসলামীর তিন সংসদ সদস্য। তারা হলেনঅধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী নজরুল ইসলাম। বিরোধী দলীয় এই সংসদ সদস্যরা সব মিলিয়ে ১৫টি বিলের ওপর নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।

৪টি অধ্যাদেশকে এখনই বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ : প্রতিবেদনে চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলো হলোজাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ২০২৪, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৬।

সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ ১৫টির : সংশোধিত আকারে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করা ১৫টি অধ্যাদেশ হলোনারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৫, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন)-২০২৫, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ২০২৫, সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৫, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৫, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ২০২৫, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৫, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ২০২৫, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৫, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ দমন অধ্যাদেশ২০২৬, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ২০২৬, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৬, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৬ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ২০২৬।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহামের উপসর্গ নিয়ে চমেক হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধঅফিস ৯টা থেকে ৪টা, ৬ টায় মার্কেট বন্ধ