শ্রমিকদের আন্দোলন চলার মধ্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে হচ্ছে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে তা হতে পারে। গতকাল রোববার বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান ও পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। খবর বিডিনিউজের।
নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে গতকাল থেকে ফের লাগাতার ধর্মঘটে নেমেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এ অবস্থায় ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস অফিস। সেখানে বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, কন্টেনার ব্যবস্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা করতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির খসড়া বিনিময় করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি বলেন, নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল সংক্রান্ত চলমান আলোচনার অগ্রগতিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড সন্তুষ্ট। এখন পর্যন্ত আলোচনার যে অগ্রগতি হয়েছে ডিপি ওয়ার্ল্ড তার প্রশংসা করেছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড আমাদের জানিয়েছে যে, তারা ড্রাফট কনসেশন এগ্রিমেন্ট (চুক্তির খসড়া) গ্রহণ করেছে এবং বিস্তারিতভাবে রিভিউ করবে। তারা কিছু সময় চেয়েছে, বাস্তবিকভাবে দেখলে হাতে খুব বেশি কার্যদিবস নেই।
কন্টেনার ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের কাছে দেওয়ার বিষয়ে শ্রমিক অসন্তোষ থাকলেও বিডি চেয়ারম্যান বলেন, ড্রাফট কনসেশন এগ্রিমেন্ট পর্যালোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে তারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড)। সেই সময় কতদিন হতে পারে? জবাবে তিনি বলেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা নিশ্চিত করার আলোচনাটি সম্ভবত নির্বাচন পরবর্তী প্রশাসনের সময়কাল পর্যন্ত গড়াতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তিটি হওয়ার কথা চলছে। নির্বাচনের আগেই চুক্তি হয়ে যাবে, এমন গুঞ্জনও ছিল। এই সরকারের সময়ে চুক্তি সম্পাদিত না হলেও তা থেমে থাকছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, দর কষাকষি চলতে থাকবে। নির্বাচন পরবর্তী সরকার তা এগিয়ে নিবে।
দেশি–বিদেশি দুটো প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রায়ত্ত–এ কথা তুলে ধরে চৌধুরী আশিক বলেন, জি–টু–জি নেগোসিয়েশনের ক্ষেত্রে প্রথমে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এমওইউ সই হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্য দেশের সরকার মনোনীত কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিপিপি আলোচনা শুরু হয়।
কন্টেনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয় ২০১৯ সালে। নানা ধাপ পেরিয়ে গত এক মাসে আলোচনাটি চূড়ান্ত ও সবচেয়ে নিবিড় পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তুলে ধরেন আশিক চৌধুরী। বিভিন্ন দেশে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে হতে যাওয়া চুক্তিতেও বাংলাদেশের কেউ সম্পৃক্ত হয়ে সুবিধা নিচ্ছে–এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি সব চুক্তিই সূক্ষ্মভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। কেউ সুবিধা নিয়ে থাকলে তাদের বিচার হওয়া উচিত। যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের কোনো অসঙ্গতি, সুবিধা নেওয়ার বিষয় আছে কিনা তা দেখা যেতে পারে। এখানেও সব ধরনের প্রক্রিয়া নেওয়া যেতে পারে স্বচ্ছতা আনতে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত না হয় তাহলে অভিযোগকারীকে অন্তত সামাজিক সমালোচনায় আনা দরকার। আমি এ রকম সব ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।












