স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলোর আলোচিত সেই প্রতিবেদনে ‘জঘন্য অপরাধ’ হয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘অনেক সহ্য করেছেন’ তারা; এবার ‘শাস্তি হওয়া উচিত’।
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মিলনায়তনে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করে ক্ষমতাসীন দল সমর্থক ছাত্র সংগঠনটি। আলোচনায় কাদেরের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ২৬ মার্চ প্রথম আলো পত্রিকার সেই প্রতিবেদন। সরকার দেশের ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করছে’, এমন অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সবসময় গণমাধ্যমকর্মীদের ‘কল্যাণের চেষ্টা করছে’ দাবি করে কাদের বলেন, আমরা সাংবাদিকদের সুখে–দুঃখে আছি। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় আমরাও বিশ্বাসী। এই স্বাধীনতা আমরা ক্ষুণ্ন করতে চাই না। কিন্তু সাংবাদিকদের রেসপন্সিবল হতে হবে। খবর বিডিনিউজের।
প্রথম আলোর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাশে যারা একটা বাচ্চাকে ব্যবহার করে দিনমজুরের নামে একটা উদ্ধৃতি দিয়ে যে জঘন্য অপরাধ করেছে, এই জঘন্য অপরাধের শাস্তি তাদের পাওয়া উচিত। আমরা অনেক কিছু সহ্য করছি।
উন্নত বিশ্বে হলে লাইসেন্স বাতিল হতো : ওবায়দুল কাদেরের দাবি, সেই ফটোকার্ডে যে শিশুর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তাকে ‘ঘুষ দিয়ে’ কথা বলিয়েছেন প্রথম আলোর কর্মী। তার মতে এটা চাইল্ড এঙপ্লয়টেশন।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শিশুর হাতে ১০ টাকা ঘুষ দিয়ে এ ধরনের কথা, পরে বললেন ভুল…। উন্নত গণতান্ত্রিক বিশ্বের কোনো দেশে এই ধরনের চাইল্ড এঙপ্লয়টেশন হলে সেই মিডিয়া বা গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল করা হতো। শেখ হাসিনা অনেক কিছু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ বলেন, ভুল তো অপরাধ নয়। ঠিক আছে ভুল অপরাধ নয়। অপরাধকে নিছক ভুল বলে কি এড়িয়ে যাওয়া যায়? এটা জঘন্যতম অপরাধ। এটা চাইল্ড এঙপ্লয়টেশন। প্রথম আলো ‘ভুল স্বীকার করে নিলেও’ কেন ক্ষমা চায়নি, সে প্রশ্নও তোলেন কাদের। তিনি বলেন, অহংকারে বুদ হয়ে তারা তাদের বক্তব্যকে সমর্থন করে যাচ্ছে।
মামলা সরকার করেনি : সাংবাদিকদের ‘ভয় দেখাতে’ প্রথম আলোর সম্পাদক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে ‘রিপোর্টার্স ইউদআউট বর্ডার’ নামের আন্তর্জাতিক সংগঠন যে অভিযোগ এনেছে, তা নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তারা বিবৃতি দিয়েছে, সাংবাদিককে ভয় দেখাতে সরকার এই কাজটি করেছে। একটি পত্রিকার রিপোর্টারকে গ্রেপ্তার করেছে, তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। কিন্তু মামলা সরকার করেনি, মামলা বেসরকারিভাবে হয়েছে। কিন্তু অপরাধের কি কোনো শাস্তি নেই?










