ফটিকছড়ি উপজেলায় এক সময়ের পড়ে থাকা অনাবাদি জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে তরমুজ। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবার এই অঞ্চলে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনাবাদি জমিতে ‘সবুজ সোনা’ বা তরমুজ চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন কৃষকরা, যা পুরো উপজেলায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মন্দাকিনি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক বছর যে জমিগুলো আবাদের অভাবে পড়ে থাকতো, এবার সেখানে ৪৭ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এবং নিজস্ব উদ্যোগে কৃষকরা মালচিং পদ্ধতি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে এই সাফল্য অর্জন করেছেন।
উপযুক্ত আবহাওয়া এবং বালু মিশ্রিত দোআঁশ মাটি হওয়ায় এবার তরমুজের আকার ও স্বাদ অত্যন্ত ভালো হয়েছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন গড়ে ৫ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে। স্থানীয় বাজারগুলোতে ইতোমধ্যেই এই তরমুজ উঠতে শুরু করেছে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহ বাড়ায় পাইকারি পর্যায়ে দাম কিছুটা ওঠানামা করলেও এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা।
একজন সফল কৃষক কোরবান আলী জানান, আগে এই জমিতে কিছুই হতো না, কেবল ঘাস ও আগাছা জন্মানোর কারণে জমিগুলো পড়ে থাকতো। এবার সাহস করে তরমুজ চাষ করেছি। ফলন এতো ভালো হবে ভাবিনি। অল্প সময়ে এবং কম খরচে এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল।
কৃষক হোসেন আলী বলেন, অনাবাদি জমিতে ঘাস ছাড়া কিছুই হতো না। এবার সেখানে তরমুজ হাসছে। তবে আমাদের এলাকায় যদি একটি বড় হিমাগার থাকত, তবে আমরা এই তরমুজ আরও কিছুদিন সংরক্ষণ করে বেশি দামে বিক্রি করতে পারতাম। সরকারের কাছে আমাদের এটাই এখন বড় দাবি।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর ফটিকছড়িতে রেকর্ড পরিমাণ ৪৭ হেক্টর অনাবাদি জমি তরমুজ চাষের আওতায় আনা হয়েছে, যা গত বছরে ছিল ২৭ হেক্টর। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের মানসম্মত বীজ সরবরাহ, নিয়মিত পরামর্শ এবং রোগবালাই দমনে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ট্রপিল, বাংলালিংক, গ্রীণ গ্লোরি, পাকিজাসহ উন্নতজাতের তরমুজ চাষ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ৪০–৪৫ টন ফলন পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ এবং সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ফটিকছড়ির তরমুজ পুরো চট্টগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানেও বড় ভূমিকা রাখবে। অনাবাদি জমিতে এই তরমুজ চাষের সাফল্য দেখে পার্শ্ববর্তী এলাকার অন্য কৃষকরাও আগামীতে পতিত জমিতে চাষাবাদ করার পরিকল্পনা করছেন।













