অনশনের ঘোষণা প্রাথমিকের শিক্ষকদের, চান প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

| রবিবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৫ at ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ

গ্রেড ও পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা নিরসনের তিন দাবি পূরণে সময় বেঁধে দিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। এসময়ের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎও চেয়েছেন তারা। তাদের দীর্ঘদিনের এসব দাবি পূরণে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়ে মহাসমাবেশ থেকে নতুন এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তা না হলে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। গতকাল শনিবার রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের সংগঠনগুলোর মোর্চা ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের’ মহাসমাবেশ থেকে এ ঘোষণা আসে। খবর বিডিনিউজের।

সবার বক্তব্য শেষে মঞ্চ থেকে এ জোটে থাকা বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনির হোসেন দাবি পূরণে সরকারকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। এ সময়ের মধ্যে সরকার পদক্ষেপ না নিলে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তিনি।

সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ ধরে একাদশ গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, চাকরির ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসন এবং প্রধান শিক্ষকের শতভাগ পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতিসহ দ্রুত পদোন্নতি দেওয়ার দাবিতে ডাকা এ মহাসমাবেশে হাজারো শিক্ষক অংশ নেন।

মহাসমাবেশ শেষে শিক্ষকদের এ জোটে থাকা বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমরা ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাবিদাওয়া পূরণে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় দিয়েছি। এসময়ের মধ্যে সহকারী শিক্ষকরা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎ চান। আমাদের বিশ্বাস প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা হলে আমরা তার কাছে দাবি পূরণের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারব। আর দাবিদাওয়া পূরণে পদক্ষেপ বা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা না হলে আমরা ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করব।

দাবির পেছনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে এ শিক্ষক নেতা বলেন, মামলা জটিলতায় সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত, তাই তারা প্রধান শিক্ষকের শতভাগ পদে পদোন্নতির সুযোগ চাচ্ছেন। উচ্চতর গ্রেড একজন সরকারি চাকরিজীবীর প্রাপ্য হলেও সেটি নিয়েও জটিলতা। আর সহকারী শিক্ষকদের প্রাণের দাবি একাদশ গ্রেডে বেতন। বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন না দিলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে না। শিক্ষককে, তার পরিবারকে অভুক্ত রাখলে তিনি কীভাবে পাঠদানে বা শিক্ষার মানোন্নয়ন বা জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে মনোযোগ দেবেন?

এ তিন দাবিতে ২৬ মে থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন শিক্ষকরা। দাবি আদায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ৫ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত দিনে ১ ঘণ্টা, ১৬ থেকে ২০ মে পর্যন্ত ২ ঘণ্টা, ২১ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন। পরে গত ২৯ মে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলে কর্মবিরতির কর্মসূচি ২৫ জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এসব বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২৪ এপ্রিল ১১তম গ্রেডে বেতন পাওয়া প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে বেতন পাওয়া শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধউৎসবে সরগরম চবি ক্যাম্পাস
পরবর্তী নিবন্ধপ্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এসএএইচআর প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ