অনলাইন ক্লাস চালু হলে শিক্ষা-কার্যক্রম ব্যাহত হবে

ফারহানা ইসলাম রুহী | বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

৯০এর দশকের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় তেল ঘাটতি থাকলেও স্কুলকলেজ বন্ধ করা হয়নি, বরং বিলাসী খাতে কৃচ্ছতা সাধনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। আজও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য মার্কেট, বিয়ের অনুষ্ঠান, ক্লাব ও অতিরিক্ত আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ করা অধিক কার্যকর হতে পারে। প্রতিটি মার্কেট সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন বন্ধ রাখা এবং দিনের আলোকে কাজে লাগিয়ে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ রাখা জরুরি। বিয়ে বাড়ি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও অতিরিক্ত আলোকসজ্জা কমালে উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব। দেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি ও এমপিওভুক্ত স্কুলকলেজে জেনারেটর প্রায় নেই বললেই চলে, দেশের বড় শহরগুলোতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত খরচে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে।

অনলাইন ক্লাস চালু হলে শিশুকিশোররা পড়াশোনার চেয়ে মোবাইল ও গেমে বেশি সময় ব্যয় করার ঝুঁকিতে পড়বে। করোনাকালে সৃষ্ট শিক্ষাগত ঘাটতি আমরা এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারিনি। সপ্তাহে ৩ দিন অফলাইন ও ৩ দিন অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাই ৩+৩ মডেল বাতিল করে সপ্তাহে ৪ দিন সশরীরে ক্লাস চালু রাখা উচিত। সামনেই ওলেভেল, লেভেল ও সেশন ফাইনাল পরীক্ষাএই সময়ে অনলাইন ক্লাস শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

অনলাইন ক্লাস মানেই ইন্টারনেট, স্মার্ট ডিভাইস ও বাড়তি খরচ, যা অভিভাবকদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বেসরকারি স্কুলগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না; বেতন আদায় ব্যাহত হলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। কের্মজীবী অভিভাবকদের জন্য ডেকেয়ার ও সন্তানের পড়াশোনা একসাথে সামলানোও কঠিন হয়ে যাবে, ফলে বেকারত্ব ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংকট তৈরি হতে পারে।

সময় কিছুটা কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণই হতে পারে বাস্তবসম্মত সমাধান। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের একটি মানবিক, যৌক্তিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তই এখন সময়ের দাবি।

লেখক : শিক্ষক

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিএমপির সাবেক এডিসি কামরুল দম্পতির বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলা
পরবর্তী নিবন্ধঅনলাইনে ক্লাস নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখুন