বেখেয়ালী ভুলে অনন্ত সন্ন্যাস আমার।
তবুও পবিত্র শ্লোকের মতো পাঠ করি কিছু ভুল;
তুলে রাখি ধর্মগ্রন্থের মতো যত্নে, একান্ত প্রেমে।
দেবতার পায়ের কাছে দিয়েছিলাম একবার
জন্মান্তরের পুজো, মানত ছিল তোমাকে ভুলে যাবার
সন্ন্যাস নেবো – সে আর হলো না আমার!
দেবতার বরে আজও রয়ে গেলে তুমি;
তোমাকে ছেড়ে না যাবার জন্মান্তরের ব্রতে
অনন্ত সন্ন্যাস আমার পরবাসী।
তোমাকে দেখার জন্যে
জাবীদ মাইন্উদ্দীন
তোমাকে দেখার জন্যে
কতো সুবহে সাদেক পাড়ি দিয়েছি
অনন্ত কুয়াশা পথ
ঐশ্বরিক তসবীদানায় জপ করেছি
তোমার পবিত্র নাম
তোমাকে দেখার জন্যে
কতো বর্ষাবিকেল আরোহণ করেছি
নাইথ্যং পাহাড়চূড়া,
জাদিমূড়া বৌদ্ধ ক্যাঙ্
তোমাকে দেখার জন্যে
প্রদক্ষিণ করেছি মুন্ডারডেইল অলিগলি,
আলোআঁধারি সাবরাং জিরো পয়েন্ট
তোমাকে দেখার জন্যেই
পূর্ণিমা চাঁদ ডেকে এনেছি
শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে
তোমাকে দেখার জন্যে
একীভূত করেছি মংডু ও হ্নীলার
মধ্যবর্তী নাফ,
রোহিঙ্গা কন্যার হাতে গুঁজেছি
একগুচ্ছ বরই আচার
তোমাকে দেখার জন্যে,
পুনরায় দেখার জন্যেই
এই এখানে আজ ঊনত্রিশ বছর
প্রবহমান বাঁশের উপর অলিয়াবাদ সাঁকো
তোমাকে দেখার জন্যেই
দাঁড়িয়ে আছি এপ্রিলের প্রথম মধ্যাহ্ন









