অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকসহ ৬ পদে নিয়োগে পরীক্ষা নেবে এনটিআরসিএ

| বুধবার , ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে পরীক্ষা নেবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮০ নম্বরের লিখিত ও ৮ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই পরীক্ষা হবে। বাকি ১২ নম্বর থাকবে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট বেছে নেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিআরের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহপ্রধান (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার) নিয়োগ দেওয়া হত প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি/পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মদুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। এ পরিস্থিতির মধ্যে মঙ্গলবার এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহপ্রধান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। খবর বিডিনিউজের।

নিয়োগ প্রক্রিয়া : পরিপত্র অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুলকলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা অনুসারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বছরে একবার শূন্যপদের চাহিদা এনটিআরসিএতে পাঠাবে। এসব পদে নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান সম্পর্কিত বিস্তারিত সময়সূচি ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে এনটিআরসিএ বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। এসব পদে নিয়োগ পেতে প্রার্থীদের তিন এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।

সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি পরীক্ষা কমিটি গঠন করবে। প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেবে এনটিআরসিএ। এর বিষয়বস্তুও এনটিআরসিএ নির্ধারণ করবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর হবে ৪০ শতাংশ। পদভিত্তিক শূন্যপদের তিনগুণ প্রার্থীর সমন্বয়ে লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের উত্তীর্ণ করা হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও এনটিআরসিএর প্রতিনিধির সমন্বয়ে বোর্ড গঠন করে নেওয়া হবে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা। মৌখিক পরীক্ষায়ও পাস নম্বর হবে ৪০ শতাংশ। মৌখিক পরীক্ষা উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে থেকে লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসারে পদভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করা হবে।

নিয়োগ সুপারিশ : উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে নির্ধারিত শূন্যপদের বিপরীতে এনটিআরসিএ অনলাইনে পছন্দক্রমের আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। একজন প্রার্থী পাঁচটি শূন্যপদের বিপরীতে পছন্দ দিতে পারবেন। কোনো প্রার্থী এর বাইরের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে ইচ্ছুক হলে অনলাইন আবেদনে সে সুযোগও পাবেন। কোনো প্রার্থী ফৌজদারি মামলায় আদালত থেকে দণ্ডিত হলে বা বিভাগীয় মামলায় দণ্ডিত হলে আবেদনের জন্য অযোগ্য বলে গণ্য হবেন।

পরে এনটিআরসিএ প্রার্থীর পছন্দ ও মেধার ভিত্তিতে শূন্যপদের বিপরীতে একজন প্রার্থীকে নিয়োগ সুপারিশের জন্য নির্বাচন করা হবে। তবে, নিয়োগ সুপারিশের জন্য প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান বা সহকারী প্রধান পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের এনটিআরসিএর যেকোনো একটি পর্যায়ে নিয়োগের জন্য নিয়োগ সুপারিশ বিবেচনা করা হবে। এনটিআরসিএ নিয়োগ সুপারিশ করে প্রার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জানাবে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীকে এক মাসের মধ্যে নিয়োগ দেবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রবাহ
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের মাঘোৎসব উদযাপন