সমগ্র মুসলিম উম্মাহ‘র কাছে হিজরী বর্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাস হলো রমজান। পবিত্র হাদিস শরীফে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করলো সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করলো। আর যে এ মাসে একটি ফরজ আদায় করলো সে যেন অন্য মাসের ৭০টি ফরজ আদায় করলো। (শুআবুল ঈমান : ৩/৩০৫–৩০৬)। অর্থাৎ রমজান মাসের ইবাদত যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা উল্লিখিত হাদিস শরীফ থেকে প্রতীয়মান হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা রমজান মাস আসলে অধিক নেকি লাভের আশায় ব্যবসায়িক পণ্যের মূল্য কমিয়ে আনার যথাযথ চেষ্টা করেন। তারা ব্যবসাকে আখিরাতের পুঁজি হিসেবে কাজে লাগান। তারা পার্থিব লাভের প্রতি মনোযোগী হন না। ব্যবসাকে জনকল্যাণের মাধ্যমে অধিক নেকি লাভের আশা করেন। কিন্তু প্রায় ৯২% মুসলিমের দেশ হয়েও আমাদের দেশের কিছু অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের মনমানসিকতার মধ্যে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। রমজান মাস এলেই তারা বিভিন্ন অজুহাতে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে ব্যাকুল হয়ে পড়ে। তারা শুধু পার্থিব লাভের আশায় দ্রব্যমূল্য বাড়াতে দ্বিধা বোধ করে না। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবীরা, সিদ্দীকীন (সত্যবাদী) এবং শহীদদের সঙ্গে থাকবেন।’ (তিরমিজি: হাদিস ১২০৯)। তারা রাসুল (সা.) –এর এই হাদিসখানা আমলকারীগণ নি:সন্দেহে পরকালে শহীদের সমান মর্যাদা পাবেন। তাই, একজন ব্যবসায়ীর উচিত, ব্যবসাকে শুধু পার্থিব লাভের উৎস মনে না করে, আখিরাতের কথা স্মরণে রেখে অতিমুনাফার চিন্তা বাদ দিয়ে যথাযথভাবে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে জনকল্যাণে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে পারে।












