নগরীর অগ্রণী ব্যাংক লালদীঘি শাখার ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকটির কর্মকর্তাসহ দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এ মামলাটি দায়ের করেন কার্যালয়টির উপ–পরিচালক আল আমিন। মামলার আসামিরা হলেন– অগ্রণী ব্যাংক চট্টগ্রাম লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন এবং তার সহযোগী ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীর। কামরুল হোসেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাধীন ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের মন্দাকিনি গ্রামের মো. জহুরুল আলমের ছেলে এবং জাফরুল্লাহ তানভীর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানাধীন চরপাথরঘাটা গ্রামের ছৈয়দ মাঝির বাড়ির আজিম উল্লাহর ছেলে।
এজাহারে বলা হয়, আসামি মো. কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভোল্টের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অগোচরে ভল্ট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সরিয়ে নেন। ব্যাংকের অডিট বা হিসাব মেলানোর সময় জালিয়াতি ঢাকতে তিনি এক অভিনব কৌশল বেছে নেন। তিনি ১ হাজার টাকার বড় বান্ডেলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার চেয়ে কম মানের ছোট নোট কৌশলে ঢুকিয়ে রাখতেন। ফলে বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভল্টে টাকার বান্ডেলগুলো সঠিক মনে হলেও বাস্তবে সেখানে বড় অঙ্কের ঘাটতি ছিল। গত ৯ আগস্ট ব্যাংকিং লেনদেন শেষে নিয়মিত ক্যাশ ও ভল্টের টাকা মেলানোর সময় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতিটি ধরা পড়ে। এ সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের জেরার মুখে কামরুল কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, ভল্ট থেকে সরানো এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি তার সহযোগী ২নং আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের মাধ্যমে স্থানান্তর করেছিলেন।
এই আত্মসাৎকৃত অর্থ দিয়ে তারা যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাধীন বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলেন, যেখানে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০টি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৯ আগস্ট পর্যন্ত এসব টাকা ভল্ট থেকে সরানো হয়।
মামলার বাদী দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর উপ–পরিচালক আল আমিন দৈনিক আজাদীকে মামলা দায়েরের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুদক প্রধান কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমাদন পাওয়ার পর মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আমলে নেওয়া হবে।












