নগরীর বায়েজিদ থানাধীন অক্সিজেন এলাকায় আবুল খায়ের গ্রুপের স্টারশিপ জুস কারখানার একটি কক্ষে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কারখানার ওই কক্ষে ভয়াবহ রকমের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুরো এলাকা কেঁপে উঠে। বিস্ফোরণে কারখানার অন্যান্য ভবনের জানালার কাচসহ আশেপাশের এলাকায়ও কয়েকটি ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণের পর কারখানাটির ওই কক্ষটিতে আগুন ধরে যায়। এতে প্রচুর ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিস আগুন আয়ত্ত্বে নিয়ে আসলেও ক্ষয়ক্ষতি এবং বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করতে পারেনি।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্টারশিপ জুস কারখানার ভেতরে জুসের জন্য ব্যবহৃত বোতল তৈরির ইনজেকশন মোল্ডিং মেশিনের কম্প্রেসার সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে থাকা কার্টন ও শিটসহ বিভিন্ন দাহ্য বস্তুতে আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ এবং আগুনে শ্রমিকদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় হুড়োহুড়ি করে শ্রমিকদের অনেকেই বাইরে বেরিয়ে আসে। ওই কক্ষটিতে আগুনের ফলে সৃষ্ট ধোঁয়ায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। তাদেরকে দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
আগ্রাবাদস্থ ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, খবর পাওয়ার পর চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা দ্রুত কাজ শুরু করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই কারখানার লোকজন আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত কাউকে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষনিকভাবে কিছু জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিস্ফোরণের পর কক্ষটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। কারখানার একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয় যে, বিস্ফোরণে মোট ১১ জন আহত হয়েছেন এবং সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আবুল খায়ের গ্রুপের একজন কর্মকর্তা দৈনিক আজাদীকে বলেন, বোতল তৈরির মেশিনের পাশের একটি কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং সেখান থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন লাগার পর ধোঁয়া বের করার জন্য ওই কক্ষের দরজা–জানালা ভেঙে দেওয়া হয়। আহতদের আবুল খায়ের গ্রুপের নিজস্ব হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে, ৩ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বিষয়টিকে স্রেফ এঙিডেন্ট বলে উল্লেখ করেন।














