ঈদের বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নিয়ে সড়ক মন্ত্রীর কথার উল্টো চিত্র পাওয়া গেল ‘যাত্রী কল্যাণ সমিতি’র পর্যবেক্ষণে। সমিতি বলছে, এবার ঈদে ৮৭ শতাংশ বাস ও মিনিবাসে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে শুধু ঈদযাত্রায় যাত্রীর পকেট থেকে অতিরিক্ত ভাড়াবাবদ বের করে নেওয়া হচ্ছে ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে যে ‘নৈরাজ্য’ চলছে, তাতে গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ হতে চলেছে বলেও দাবি করছে সংগঠনটি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গতকাল বুধবার রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সবাই নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছে। বরং দুয়েকটি পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ২০–৩০ টাকা কম নিচ্ছে, যা যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক। খবর বিডিনিউজের।
কিন্তু একই দিনে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেছেন, গত ১৪ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের যাতায়াত, ঈদের অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা, সরকারের নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক কার্যক্রম, পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের গৃহীত ঈদযাত্রা সংশ্লিষ্ট নানা কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করে তারা ভিন্ন চিত্র পেয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। আজ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটিবাসেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। নৌ–পথের বেশিরভাগ রুটে এমন নৈরাজ্যের চিত্র দেখা গেলেও সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে মালিকদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছে। এতে করে এবারের স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য গত বিশ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তঃজেলা ও দুরপাল্লার বাস–মিনিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে বলে তাদের ধারণা। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটি সার্ভিসের বাসে আরো প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার রুটে বাস–মিনিবাসে ৪০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াতে ৮৭ শতাংশ যাত্রীপ্রতি টিকিটে গড়ে ৩৫০ টাকা হারে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সেই হিসেবে এবারের ঈদে দুরপাল্লার যাত্রীদের ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সমিতি বলছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিটিবাসে ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর ৮৭ শতাংশ যাত্রী প্রতি টিকিটে গড়ে ৫০ টাকা হারে বাড়তি দিলে ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে। ফলে এবারের ঈদে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা শুধুমাত্র বাস–মিনিবাসে বাড়তি ভাড়া আদায় হবে।










