৫০ বছর পর ফের চাঁদের কক্ষপথে মানুষ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নাসা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আর্টেমিস ২ মিশনের মাধ্যমে চারজন নভোচারী পাড়ি দিতে যাচ্ছেন চন্দ্রাভিমুখে। ২০২৪ সালে নাসা বলেছিল, আর্টেমিস ২ মিশন পিছিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিলে নেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি এখন বলছে, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই চালু হতে পারে এই মিশন এবং প্রথম সুযোগ হতে পারে ৬ ফেব্রুয়ারি। খবর বিডিনিউজের। বর্তমানে এই মিশনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে নাসা। খুব শিগগিরই স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস রকেট ও ওরিয়ন নামের মহাকাশযানটিকে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাডে নিয়ে আসবে তারা। অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে লঞ্চ প্যাড ৩৯বি পর্যন্ত এই সাড়ে ছয় কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে মহাকাশযানটির প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগবে। এই ১৭ জানুয়ারির পর সে কাজটি করে ফেলার লক্ষ্য স্থির করেছে নাসা। তবে নির্দিষ্ট দিনটি আবহাওয়া ও কারিগরি ত্রুটি সংশোধনের জন্য দরকারি বাড়তি সময়ের ওপর নির্ভর করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট। ১৯৭২ সালের সর্বশেষ অ্যাপোলো অভিযানের পর আর্টেমিস ২ হতে যাচ্ছে চাঁদে মানুষের প্রথম কোনো মিশন। ১০ দিনের অভিযানে চারজন নভোচারী যাচ্ছেন। এই দলে থাকছেন নাসার কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট হিসেবে ভিক্টর গ্লোভার ও মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ক্রিস্টিনা কোচ। সঙ্গে চতুর্থ সদস্য হিসাবে যোগ দিচ্ছেন কানাডার মহাকাশ সংস্থার মিশন বিশেষজ্ঞ জেরেমি হ্যানসেন। নভোচারীদের মূল কাজ হচ্ছে ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা করা, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী মিশনে এটি নভোচারীদের বাঁচিয়ে রাখতে পারে কি না তার যাচাই হবে। প্রথমে পৃথিবীকে দুবার প্রদক্ষিণ করবেন নভোচারীরা এবং এরপর চাঁদের দূরবর্তী পাশ ছেড়ে আরও সাড়ে সাত ৪ হাজার কিলোমিটার এগিয়ে যাবেন। রকেট ও ওরিয়ন মহাকাশযান যদি পরিকল্পনা অনুসারে লঞ্চ প্যাডে পৌঁছায় তবে জানুয়ারির শেষদিকে ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল বা পূর্ণাঙ্গ মহড়ার পরিকল্পনা করেছে নাসা।










