বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামে সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে বক্তব্য রেখেছিলেন। এর ১৪ বছর পর একই মাঠে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার সন্তান তারেক রহমানের বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে আগামী ২৫ জানুয়ারি। এদিন চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে পলোগ্রাউন্ড মাঠে। এ সমাবেশে যোগ দিতে দীর্ঘ ২০ বছর ৭ মাস পর চট্টগ্রাম আসবেন তারেক রহমান। এ সমাবেশে ‘১০ লক্ষাধিক’ লোকের সমাগম ঘটাতে চায় দলটির নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রাম আসেন ২০০৫ সালের ৬ মে। তখন তিনি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মাহসচিব। গত ৯ জানুয়ারি তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলের প্রধান হিসেবে এবারই প্রথম চট্টগ্রাম আসবেন তিনি। এছাড়া ২০০৫ সালে তার সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফরে তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের জন্য ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন। ওই হিসেবে দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে প্রথম বড় কোনো সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। এদিকে দলের প্রধান তারেক রহমানের আগমন ও পলোগ্রাউন্ড মাঠের সমাবেশকে ঘিরে উৎসাহ–উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীর মাঝে। চাঙ্গা ভাব এসেছে নেতাকর্মীদের মাঝে। তাদের দাবি, দলীয় কর্মী ছাড়াও সাধারণ লোকজন সমাবেশে অংশ নেবে। সমাবেশ সফল করতে গতকাল নগরে প্রস্তুতি সভা করেছে বিএনপি। গঠন করা হয়েছে উপ–কমিটিও। এছাড়া কয়েকদিনের মধ্যে নগরজুড়ে শুরু হবে সমাবেশের প্রচারণাও।
বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের আগমনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রচার–প্রচারণায় গতি পাবে। সমাবেশ থেকে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কাজ করার নির্দেশনা দিতে পারেন। বিএনপির আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে ধানের শীষের জন্য ভোট চাইবেন সাধারণ মানুষের কাছেও। বিএনপি নেতাদের দাবি, সমাবেশে সাধারণ মানুষ আসবেন। কারণ তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনও সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়েছেন রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে। একইভাবে চট্টগ্রামেও তাকে দেখার জন্য ছুটে আসবেন সাধারণ লোকজন। দেশকে নিয়ে তার পরিকল্পনা ও বক্তব্য শুনে ‘উজ্জ্বীবিত’ হবেন তারা। নির্বাচনী মাঠে তার সুফল ঘরে তুলবে বিএনপি, এমনটাই আশা দলটির নেতাকর্মীদের।
নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ আজাদীকে বলেন, তারেক রহমান ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম আসবেন। রাতে তিনি চট্টগ্রাম থাকবেন। পরদিন ২৫ জানুয়ারি সকাল ১০ টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসমাবেশে উপস্থিত থাকবেন, সমাবেশ ১২টার মধ্যে শেষ করা হবে।
তিনি বলেন, ২০০৫ সালে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মীর মো. নাছিরের প্রচারণায় অংশ নিতে তারেক রহমান চট্টগ্রাম আসেন। এরপর গত ২০ বছর তিনি চট্টগ্রাম আসেননি। যেহেতু তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন, তাই আমাদের দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীর নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের নেতা তারেক রহমানকে চট্টগ্রামে অভ্যর্থনা জানানো।
এক প্রশ্নের জবাবে এরশাদ উল্লাহ বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির বিধিনিষেধ না থাকার কারণে সমাবেশে বক্তব্য রাখতে পারবেন এবং নির্বাচন নিয়ে কথাও বলারও গণতান্ত্রিক অধিকার থাকবে তার। আশা করছি চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণ পলোগ্রাউন্ড মাঠে উপস্থিত থেকে উনার গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ এবং নির্বাচন নিয়ে উনি কি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন সেটা শুনার জন্য সকলকে অনুরোধ করছি।
নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান আজাদীকে বলেন, পলোগ্রাউন্ড মাঠে ১০ লক্ষ লোকের সমাগম হবে। দীর্ঘদিন পর আমাদের চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম আসছেন। তার এ আগমনকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীর বাইরেও সাধারণ মানুষও স্বতঃস্পূর্তভাবে অংশ নেবেন। সেদিন মানুষের ঢল নামবে পলোগ্রাউন্ডে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমনের খবরে দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ উভয়ের মধ্যে বিশেষ উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। তার নেতৃত্বে দলের সংগ্রাম আরও দৃঢ় হবে এবং দেশের চলমান নির্বাচন পরিস্থিতি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী হবে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ–সভাপতি (চট্টগ্রাম বিভাগ) মুহাম্মদ শাহেদ আজাদীকে বলেন, অনেক বছর পর লিডার আসছেন। স্বাভাবিকভাবে সবাই উচ্ছ্বাসিত ও উৎফুল্ল। পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে সর্বোচ্চ উপস্থিত থাকবে যুবদলের। যুবদলের প্রান্তিক পর্যায়ের প্রতিটি কর্মী সমাবেশে অংশ নেবেন। মহানগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা মিলে যুবদলের লক্ষাধিক কর্মী অংশ নেবেন আশা করি। সমাবেশ উপলক্ষে আগামী ১৯ জানুয়ারি যুবদল প্রস্তুতি সভা করবে বলেও জানান তিন।
উল্লেখ্য, ‘ধর্মীয় ও সামাজিক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১১ জানুয়ারি উত্তর বঙ্গের নয় জেলায় চারদিনের সফরে যাওয়ার কথা ছিল তারেক রহমানের। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ধাপে ১৮ জানুয়ারি কঙবাজার হয়ে চট্টগ্রাম আসার কথা ছিল। ওইদিন নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেয়ারও শিডিউল ছিল। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে এ সফর স্থগিত করা হয়।












