১৫ বছরে ২১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির তথ্য দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গ্লোবাল ফ্রড সামিট

| মঙ্গলবার , ১৭ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ

ডিজিটাল স্ক্যাম, এমএলএম পঞ্জি স্কিম এবং করপোরেট দুর্নীতির মত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ১৫ বছরে বাংলাদেশের আনুমানিক ২১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির তথ্য ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিটে’ তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সম্মেলনের অংশ হিসেবে রোববার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় এক উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি ডিজিটাল জালিয়াতি ও বৈশ্বিক প্রতারণা মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ক্ষেত্রে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রযুক্তিগত সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। খবর বিডিনিউজের।

তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশে ডিজিটাল স্ক্যাম, এমএলএম পঞ্জি স্কিম এবং করপোরেট দুর্নীতির ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, ২০০৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে আনুমানিক ২১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সামপ্রতিক সময়ে এমটিএফই এবং বিভিন্ন বিতর্কিত ইকমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিলিয়ন টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ট্রেড মিসইনভয়েসিং বা বাণিজ্যের আড়ালে ২০০৯২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৮৬০ সালের প্রচলিত দণ্ডবিধি আধুনিক ‘হোয়াইট কলার ক্রাইম’ মোকাবিলায় অপর্যাপ্ত, যা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বৈঠকে তিনি বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতারণা রোধে চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এগুলো হল প্রতারণার নিত্যনতুন কৌশল বুঝতে ব্যাপক গবেষণা ও কৌশলগত তথ্য আদানপ্রদান, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্মগুলো আরো শক্তিশালী করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা, সর্বশেষ বিচারিক কাঠামো ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আর্থিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। তবে অপরাধের বৈশ্বিক প্রকৃতির কারণে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ছাড়া এককভাবে এটি নির্মূল করা সম্ভব নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রী গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন।

এই সম্মেলনে বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে আগামী ২০ মার্চ তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্বাদ ও বৈচিত্র্যে ইফতার আয়োজন রোদেলা বিকেলে ৪৫ পদের আকর্ষণ
পরবর্তী নিবন্ধউপদেষ্টা ডা. জাহেদ তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে