সীতাকুণ্ডের সীমা অক্সিজেন লিমিটেডের কারখানায় বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে ১৮ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ও রাতে আহত দুজনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এর মাঝে গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রবেশ লাল শর্মা (৪০) নামে আহত
একজনের মৃত্যু হয়েছে। চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উনার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। শুরু থেকেই অবস্থা সঙ্কটজনক ছিল। রোববার রাত সাড়ে দশটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়েছে।
মাকসুদুল আলম নামে অপর একজন বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিস্ফোরণে তার এক পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইসিইউ
বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন উর রশিদ। এদিকে আহতদের মাঝে তিনজন ভর্তি রয়েছেন চক্ষু বিভাগে। তারা হলেন হাটহাজারীর আমান বাজার এলাকার ইউনুছ মিয়ার ছেলে মো. আজাদ (২২), ভাটিয়ারীর বশির আহমদের ছেলে সোলায়মান (৪০) ও খুলশী এলাকার মো. ইউনুছের ছেলে নাহিম
শাহরিয়ার (২৬)। তিনজনই চোখে আঘাত পেয়েছেন। তবে আজাদের আইবল ইনজুরি হওয়ায় ডান চোখের দৃষ্টি শক্তি হারাতে পারেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। অপর চোখটিও ক্ষতিগ্রস্ত। এ খবর জেনে আজাদের পরিবারের সদস্যরা ভাই–স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই চোখের পানি মুছছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আজাদ কয়েক বছর ধরে সীমা অক্সিজেন লিমিটেডে কাজ করছেন। শনিবারের বিস্ফোরণে তার মুখমণ্ডল থেঁতলে গেছে। কোনোরকমে প্রাণ নিয়ে বের হয়ে এসেছেন। সারা মুখ ও মাথায় কাচ ও লোহার টুকরো ঢুকেছে। আঘাত লেগেছে দুই চোখেও। অবস্থা খুবই খারাপ।
আজাদের বড় ভাই আকতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমার ভাই একটি চোখে নাকি আর দেখতে পাবে না। অন্য চোখটিও খারাপ। এখন কীভাবে তাকে বলব? বাকি দুজনের চোখও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে।
সবারই একটি করে চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে জানিয়ে বিভাগের চিকিৎসকরা বলছেন, সবার চোখেই অনেকগুলো কাচের টুকরো। পাশাপাশি লোহার পাত। এতে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নাহিন শাহরিয়ারের বাঁ চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তিনি সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টের কর্মী। চোখে কাচ ঢুকে নার্ভ কেটে গেছে। অস্ত্রোপচার করে অনেক কাচ বের করা হয়েছে বলে জানান চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মেদুল হক মেজবাহ।
ট্রাকের শ্রমিক মো. সোলায়মানের দুই চোখে আঘাত লেগেছে। কাচ ও লোহার টুকরো ঢুকেছে।
চক্ষু বিভাগে চিকিৎসাধীন তিনজনের মধ্যে একজনের এক চোখ সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে চিকিৎসকদের বরাতে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক। আহত আরো বেশ কয়েকজনের শ্রবণ শক্তি নষ্টের ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন তিনি। অন্যদের ক্যাজুয়াল্টি, নাক–কান ও গলা, নিউরোসার্জারি, অর্থোপেডিকসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।














