ইতালির ভেনিস থেকে দেশে ফিরে নিজের ওপর হওয়া হামলার ঘটনা নিয়ে বিমানবন্দরে কথা বলেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাঁধন। সতর্ক করে তিনি বলেছেন, বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক কারণে বর্বরতা চালিয়ে হামলাকারীরা প্রবাসে নিজেদের অবস্থানকেই অনিরাপদ করছেন এবং দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছেন। খবর বিডিনিউজের।
তিনি বলেন, যারা আক্রমণটা চালাচ্ছেন, তারা মনে করছেন যে পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু তারা আজকে আমার গায়ে হাত তুলেছে। এমন না যে শুধু দূর থেকে গালি দিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে বা পানি মেরেছে তারা সরাসরি গায়ে হাত তুলেছে। এই বর্বরতা বন্ধ হতে হবে। এই ধরনের ঘটনার মাধ্যমে হামলাকারীরা আসলে প্রবাসে নিজেদের অবস্থানটাকেই অনিরাপদ করছে।
রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ চলচ্চিত্র নিয়ে ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অন্য কলাকুশলীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বাঁধন। বাংলাদেশ সময় গেল ৭ অগাস্ট রাতে মেস্ত্রে এলাকায় বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। ফেইসবুকে তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের আওয়ামী লীগ কর্মী পরিচয় দিয়ে কয়েকজন তার দিকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছোড়ে। তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার হাত থেকে মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় বাঁধনের সঙ্গে তার ভাই, ভাবি ও তাদের চার বছর বয়সি সন্তান ছিলেন। হামলাকারীদের ‘বাংলাদেশি ভাই’ বর্ণনা করে বাঁধন বলেন, আমার প্রবাসী ভাইয়েরাই আমার ওপর আক্রমণ করেছে, বর্বরতা চালিয়েছে। এটার কারণে বিদেশের মাটিতে দেশের নাম ক্ষুণ্ন হল। বিদেশিরা ভাববে, আমরা জাতিগতভাবেই সারাক্ষণ মারামারি করি। যে যেখানে যাচ্ছে, সেখানে আক্রমণের শিকার হচ্ছে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাজনৈতিক অন্ধত্ব পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বাঁধন বলেন, যারা একটি নির্দিষ্ট দলের সাপোর্টার, তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা আপনারা দলকে ভালোবাসতে পারেন, কিন্তু দলকানা হইয়েন না। কালকে আপনার সাজা বা বিচার হলে সাফার করবে আপনার পরিবার। বড় বড় নেতারা বিদেশে আরামে বসে ভিডিও–অডিও বার্তা দিয়ে উসকে দিচ্ছে, তাদের জীবন তো আপনাদের মতো নয়। প্রবাসীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রেমিট্যান্স পাঠান, যা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। দয়া করে এমন অন্যায় ও বর্বর কাজ আর করবেন না। উৎসব সফর শেষে অক্ষত ও সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরতে পারায় বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাঁধন। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই সরকারি বিভিন্ন দপ্তর এবং ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস তার সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করেছে ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইতালীয় সরকার, পুলিশ প্রশাসন এবং ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বাঁধন বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর ইতালি পুলিশ তাকে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা দেয়। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, আপনারা একটি বড় দল। সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও ভবিষ্যতে আপনারা রাজনীতি করবেন। কিন্তু এখন থেকে আপনারা এমন কোনো রূপরেখা তৈরি করবেন না, যা থেকে কর্মী–সমর্থকরা উগ্র হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে দল হিসেবে আপনাদের লজ্জিত হতে হয়। ভেনিসে ওই ঘটনার পর বাঁধন অভিযোগ করে বলেছিলেন, জুলাই আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে এ হামলা ও হেনস্তা করা হয়েছে। এদিকে বাঁধনকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেন তথ্য ও সমপ্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।











