হল্যান্ড থেকে

বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া

শনিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:০১ পূর্বাহ্ণ
16

একুয়াডোর – যেন আকাশের কাছাকাছি-২
বেশ শান্ত ছিল দেড় কোটি জনসংখ্যার দক্ষিণ আমেরিকার বিশাল দেশ একুয়াডোর। কিন্তু গেল বছরের মাঝামাঝি হঠাৎ অশান্ত ও উত্তপ্ত হয়ে উঠলো দেশটি। কলা, চিংড়ি, কফি, ফুল, মাছ ছাড়াও একুয়াডোরের অন্যতম আয়ের উৎস পেট্রোলিয়াম। গেল বছর সরকার তেলের ভর্তুকি বন্ধ করে এর মূল্য বৃদ্ধি করার ঘোষণা দিলে গোটা দেশে শুরু হয় প্রচন্ড সরকার-বিরোধী আন্দোলন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও ভাঙচুর। মূলতঃ সত্তর দশক পর্যন্ত আপাতঃ শান্ত এই দেশটি ছিল কৃষি-নির্ভর। এরপর যোগ হয় পেট্রোলিয়াম উৎপাদন। মানুষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে থাকে। কিন্তু এক দশক পর এই শিল্প থেকে আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেলে নব্বইয়ের দশকে গোটা দেশ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে। মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটে, বাড়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বোঝা। অনেক একুয়াডোরিয়ান জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার আশায় ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি দেয়। পেট্রোলের মূল্য বৃদ্ধিকে নিয়ে যে আন্দোলন তাতে শত শত নাগরিক পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় যে একুয়াডোরের রাজধানী কিতোয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে যে ১২তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন, ‘গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট (জি এফ এম ডি) অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল তা পিছিয়ে দেয়া হয়। এই প্রথম জিএফএমডি সম্মেলন নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে অনুষ্ঠিত হলো। সম্মেলন আদৌ কিতোয় হবে কিনা এই নিয়ে নভেম্বর তক সংশয় ছিল। এমন কী নিরাপত্তার অজুহাতে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন একুয়াডোরের রাজধানী কিতো থেকে সরিয়ে সুজারল্যান্ডের রাজধানী, জেনেভায় স্থানান্তরের চিন্তা ভাবনা করা হয়েছিল। তবে জনগণের তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখে সরকার তেলের মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হয় এবং সম্মেলন রাজধানী কিতোয় সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়।
কিতোর পরিবর্তে সম্মেলন জেনেভায় হতে পারে জেনে অনেকে হতাশ হলেও আমি মনে মনে খুশি হয়েছিলাম। খুশি হয়েছিলাম এই কারণে, এটি ঘরের (হল্যান্ড) কাছে, অন্যদিকে একুয়াডোর অনেক দূরের দেশ। আমস্টারডাম থেকে একটানা ১১ ঘণ্টা আকাশ পথ পাড়ি দেয়া। তাছাড়া ২০১৯ সালের শুরুর দিকে কিতোয় হপ্তা খানেক আমার ‘থেকে’ আসা হয়েছে। সেবার কাজের ফাঁকে ফাঁকে দেশটির কিছু দর্শনীয় স্থানও দেখা হয়েছিল। তাই এবার আগ্রহটা কম ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘুরে ফিরে কিতোয় ফিরে যাওয়া। একুয়াডোরের লোকজন ব্যতিক্রম ছাড়া বন্ধুবৎসল। কিন্তু সমস্যা হলো রাস্তাঘাট, দোকানে ইংরেজি চল নেই বললেই চলে। টেক্সি ড্রাইভাররা তো নয়ই। এদেশের মূল ভাষা স্প্যানিশ। বহু জাতির দেশ হলেও একুয়াডোর ১৮২২ সাল পর্যন্ত স্পেনের উপনিবেশ ছিল। সেই সুবাদে। ইউরোপীয় ছাড়া এদেশে আছে আমেরিকান আদিবাসী ও আফ্রিকীয় বংশোদ্ভূত লোকজন। সংখ্যাগরিষ্ঠ হলো ইউরোপীয় ও আমেরিকান আদিবাসীদের নিয়ে মিশ্র একটি জাতি, যা মেস্তিজো হিসাবে পরিচিত। তেলের দেশ হলেও এদের বেশির ভাগ জনগণের আর্থিক অবস্থান নড়বড়ে। ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত লোকদের একটি ক্ষুদ্র অভিজাত শ্রেণি বেশির ভাগ ভূমি ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে। স্বাধীনতাকামী শক্তি ১৮২২ সালে উপনিবেশিক শক্তি স্পেনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করলেও দেশটিকে শাসন করে এসেছে সামরিক স্বৈরশাসক ও বেসামরিক সরকার, যারা সাধারণ জনগণের ভাগ্য উন্নতির পরিবর্তে তাদের ভাগ্যকে নিয়ে বরাবর খেলা করেছে। ফলে দেশ ছেড়েছে অনেকেই। এদের একজন ছোটোখাটো গড়নের, হোসে গালভেজ। চমৎকার ইংরেজি জানা হোসে অনেক একুয়াডোরিয়ানের মত ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশ ছেড়েছে অনেক বছর আগে। বেশ ক’বছর চীনে বসবাস করে বর্তমানে ইংল্যান্ডে স্থায়ী আবাস গড়েছে। হোসেকে চিনি বছর তিনেক ধরে, ‘মাইগ্রেশন’ নিয়ে কাজ করার সূত্রে। গ্লোবাল একাডেমি অন মাইগ্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্টের (জি এফ এম ডি ) অন্যতম পরিচালক তিনি। কিতো যাবো, টিকেট হাতে এসে পৌঁছেছে। সম্মেলন শুরু হবে দু’দিন পর। কিন্তু তখনও আমার হোটেল নিশ্চিত করা হয়নি, যদিও বা আয়োজকরা বলে রেখেছিলেন, চিন্তার কোন কারণ নেই। সময়মত সব বন্দোবস্ত করা হবে। ফোনে হোসের সাথে যোগাযোগ করলে বলেন, ‘মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড বিকাশ, টেনশনের কোন কারণ নেই। প্রয়োজনে তুমি আমাদের হোটেলে উঠবে। আমি খোঁজ নিচ্ছি’। ইতিমধ্যে সে ইংল্যান্ড থেকে সম্মেলনের কারণে নিজ দেশ একুয়াডোর গিয়ে পৌঁছেছে। যাই হোক, পরদিন আয়োজকদের কাছ থেকে বার্তা এলো। সব আয়োজন ঠিক। অনেকটা ‘দুয়ারে গাড়ি প্রস্তুত’ গোছের। গাড়ি ছিল এয়ারপোর্টে। কিন্তু সমস্যা ওই যা একটু আগে বলেছি। উঠে সামনের সীটে বসে বলি, ‘ইংরেজি জান’? সে কথাটা বুঝেছে ঠিকই। ব্যাস ওই তক। মাথা নেড়ে মুখে মৃদু হাসি মেখে উত্তর দেয়, না। গাড়ি এগিয়ে চলে পাহাড়ের গা ঘেঁষে, কখনো বা পাহাড় কেটে এগিয়ে যাওয়া দীর্ঘ সুড়ঙ্গ ধরে শহরের দিকে। লক্ষ্য হোটেল। যেতে যেতে যে বিষয়টা ভালো লেগেছে তা হলো ছোট-বড় সব রাস্তায় গাড়িগুলির কী চমৎকার আইন মেনে চলা। এমন কী মটর-বাইকগুলোও। আর মনে মনে ভাবি কী দুরবস্থা বাংলাদেশের। এই জীবনে যতটা দেশ দেখা হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে যেখানে ট্রাফিক আইনের প্রতি কী চালক, কী বাহনের মালিক, আইন প্রণেতা, আইন প্রণয়নকারী, সাধারণ জনগণ, চালক- কারো বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই। ইউরোপ বাদই দিলাম। পাশের ছোট্ট দেশ নেপাল। কাঠমুণ্ডতে দেখেছি কী চমৎকারভাবে গাড়িগুলি লাল-সবুজ-হলুদ রং মেনে এগিয়ে চলেছে। যেখানে বাতি নেই সেখানে ট্রাফিক পুলিশের হাত উঠানামার উপর নির্ভর। কেবল এই সোনার দেশের ‘খাঁদে-ভরা’ মানুষগুলো এখনো ‘মানুষ’ হলো না। সভ্য হলো না। প্রচলিত আইনের প্রতি এত অশ্রদ্ধা এবং আইনের প্রয়োগ নেই-এমন দেশ পৃথিবীর কোন কোনায় আছে আমার জানা নেই। অথচ কী গর্ব আমাদের, কী অহংকার আমাদের। দেশ শনৈ শনৈ করে এগিয়ে চলেছে দাবি করে আমরা আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছি পদে পদে। গত পরশু ফিরে এলাম পাশের শহর কলকাতা থেকে। সেখানেও কী চমৎকার। গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে আছে যেখানে লাল বাতি জ্বলছে। যেখানে বাতি নেই সেখানে হাতই সম্বল। এমনটি হবে কবে আমাদের সোনার বাংলায়? কবে হবো সভ্য আমরা? কবে গজাবে ‘সিভিক সেন্স’ নামক চারাটি আমাদের মাঝে? ফিরে আসি সম্মেলনে-
এই ধরনের সম্মেলনে আলোচনার পাশাপাশি আমার কাছে যে বিষয়টি ভালোলাগা তা হলো, অনেকের সাথে আবারো দেখা। এ যেন এক অপূর্ব মিলনমেলা। পৃথিবীর নানা দেশ থেকে নানা ভাষাভাষী লোকের সমাগম, ভাব বিনিময় হয়। একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কিংবা করমর্দন করে কুশল বিনিময়, আড্ডা দেয়া। কিতোয় হয়ে গেল ১২তম অভিবাসী সম্মেলন। এর আগে ১১টি দেশে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের প্রতিটিতে যোগ দেয়ার, সক্রিয় অংশ গ্রহণের সুযোগ হয়েছে। সে কারণে আয়োজক ছাড়া অনেক বিজ্ঞজনের সাথে পরিচয়, আলাপ ও বন্ধুত্ব হয়েছে। বন্ধুত্বের তো কোন সীমারেখা নেই, নেই কোন সীমান্ত। যদিও উন্নত দেশগুলো এই সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে চলেছে প্রতিদিন নানা আইনের প্রবর্তন করে। সীমান্ত দিয়ে খাদ্য যাবে, তেল যাবে, সমস্ত পণ্য চলাচল করবে, করতে পারবে। কিন্তু মানুষ নামক ‘পণ্য’ যাতে সহজে চলাচল করতে না পারে তার জন্যে সমস্ত সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, উঠছে দেয়াল। এই ধরনের সম্মেলনে অনেক অংশগ্রহণকারী ‘ভিসা’ পায়নি বলে আসতে পারেন না, প্রয়োজনীয় আমন্ত্রণপত্র ও ‘কাগজ’ থাকা সত্ত্বেও। কিতোয় দেখা ইতালীয় মহিলা আলেসান্দ্রার। বছর পাঁচেক পর। প্রথম দেখা হয়েছিল ব্যাংককে, এমনি এক সম্মেলনে। তখন তার বিয়ে হয়নি। এর পর যখন ইতালির মিলানে দেখা তখন তরুণী আলেসান্দ্রা এক সন্তানের জননী। কাজ করে রোমের ‘ইফাদ’ নামক আন্তর্জাতিক সংস্থায়। ইফাদের সাথে ‘বাসুগের’ এক বিশেষ মিটিং-এ আলেসান্দ্রা ছিল উপস্থিত। অনেকগুলো বছর পর কিতোয় দেখা হতেই জড়িয়ে ধরে বলে, ‘কতদিন পর তোমার সাথে দেখা’। জানালো, তার ছোট্ট মেয়েটি এখন বড় হয়ে উঠেছে। রোমে বাসুগের ‘সাইড ইভেন্টে’ আলেসান্দ্রা তার ফুটফুটে সুন্দর মেয়েটিকে নিয়ে এসেছিল একদিন। তখন তার মেয়েটির ছবি তুলতে চাইলে, সে সংকুচিত হয়ে না- তোলার অনুরোধ জানায়। এবার মোবাইল খুলে দেখায় তার মেয়ের ছবি। মায়ের মত সুন্দর মেয়েটি। স্বাভাবিকভাবে আলেসান্দ্রার এখন আগের সে উজ্জ্বল লাবণ্য আর নেই। বয়স তো আর কারো জন্যে বসে থাকে না। দেখা আরো অনেকের সাথে। বাংলাদেশ থেকেও এসেছেন বেশ ক’জন প্রতিনিধি। পরিচয় ও আলাপ মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের কন্যা মাহজাবিন খালেদের সাথে। সুদর্শনা এই মহিলা প্রাক্তন এম পি এবং মাইগ্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয় পার্লামেন্টারী ককেশাসের সদস্যও। তার কথাটা এই কারণে বিশেষ করে উল্লেখ করলাম যে তিনি এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে। মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এবং হানাদার পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে আহত হয়েছিলেন। মোস্তাক চক্রের বিরুদ্ধে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তিনি পাল্টা ক্যু করেন এবং ৭ নভেম্বর এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর উত্তম খালেদ মোশাররফ নিহত হন। অনেকের কাছে এই লেখার সাথে বিষয়টা অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে। দেশের বীরদের আমরা ভুলে যেতে বসেছি। তাই সুযোগ পেলেই এদের বীরত্ব গাথা তুলে ধরার তাগিদ থেকেই এই কথাগুলোর অবতারণা। সম্মেলনের পরও মাহজাবিন খালেদের সাথে যোগাযোগ ছিল। কিতো থেকে তিনি আমেরিকা হয়ে গেছেন টরেন্টোয়। সেখানে থাকা তার দু-সন্তানের সাথে যোগ দিতে। ফিরে আসি একুয়াডোরে-
একুয়াডোরে আপনি কম খরচে ও নির্ভয়ে চড়তে পারবেন হলুদ রঙের ক্যাব বা টেক্সি। ইউরোপের তুলনায় এ দেশে তেলের দাম খুব কম। হল্যান্ডে যে পথ চলতে গিয়ে টেক্সি কম করে হলেও ২৫ থেকে ৩০ ইউরো নেবে, সেই পথ যেতে একুয়াডোরে গুনতে হবে মাত্র ৭ থেকে ১০ ইউরো। দিন দুয়েক দলছুট হয়ে আমাকে টেক্সি নিয়ে হয়েছিল। সমস্যা যা হয়েছিল তা ভাষাগত। উঠেই ঠিকানা দেখিয়ে বলি যেতে। জানতে চাই, ইংরেজি জানে কিনা। মাথা নেড়ে জানায়, না। তারপর একটানা তার গাড়ি চালিয়ে যাওয়া। আর আমি নির্বাক কিন্তু অবাক চোখে পাহাড়ের বুকে গড়ে উঠা চমৎকার শহরটিকে দেখতে থাকি। মাঝে মধ্যে মোবাইলের ক্যামেরা ক্লিক করে উঠে। চলন্ত গাড়ি থেকে দেশটির সৌন্দর্যকে ধরে রাখার প্রয়াস বলতে পারেন। টেক্সি চালকের সততার উল্লেখ করে শেষ করবো আজকের এই লেখা। কিতোয় পৌঁছে দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যেয় আমার একটি বিশেষ মিটিংয়ে যেতে হবে। নীচে হোটেল রিসেপশনে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণীটিকে টেক্সির কথা জিজ্ঞেস করতেই হাতের ইশারায় দরোজার সামনে পার্ক করা গাড়ি দেখিয়ে বলে, ‘এই গাড়ি করে তুমি যেতে পার’। আমার গন্তব্যস্থল ভিন্ন একটি হোটেল। সেখানে মিটিং এবং মিটিং শেষে ডিনার। কোন দরদাম করিনি, কেননা যাবার আগে জেনে নিয়েছিলাম কত ভাড়া আসতে পারে। কোন মিটারও ছিল না। গন্তব্যস্থলে পৌঁছে তাকে জিজ্ঞেস করি, কত দেব। আমাকে অবাক করে দিয়ে বলে, পাঁচ ইউরো। অবাক এই কারণে এই পথটুকু পেরোতে হল্যান্ডে আমাকে কম করে হলেও ২৫ ইউরো গুনতে হতো। পরে শুনেছি টেক্সি হলে দিতে হতো বড়জোর তিন থেকে চার ইউরো। উবেরে আরো কম। সেখানে দেখা চমৎকার এক একুয়াডরিয়ান তরুণীর সাথে। নাম ডিয়ানা। আমার দীর্ঘ দিনের মেক্সিকান-আমেরিকান বন্ধু, এফ্রাইনের বান্ধবী। কিতোয় তার সাথে পরিচয় এবং বন্ধুত্ব। এক সন্ধ্যেয় সুদর্শনা সেই তরুণী আমাদের নিমন্ত্রণ করলো এক রেস্টুরেন্টে। আমাদের উদ্দ্যেশে আয়োজন করলো ‘মিউজিক সন্ধ্যার’। পানীয়, ট্র্যাডিশনাল একুয়াডোরিয়ান খাবারের সাথে নাচ। সে প্রসঙ্গে লিখবো পরের সংখ্যায়। (চলবে)