মন ভালো নেই ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড দলের। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি যেন খেলতে চান না দুদলের কেউই। কিন্তু বাধ্য তারা, মাঠে নামতে হবে তাদের। শিরোপার দিকে চোখ রেখেই দুটি দলই বিশ্বকাপ শুরু করেছিল। কাছাকাছি চলেও এসেছিল তারা। কিন্তু সেমিফাইনালে পরাস্ত হয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। সেমিফাইনালের মঞ্চে ছিটকে যাওয়ার পর এই দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি টুর্নামেন্টে পডিয়াম ফিনিশ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। দুই দলই ফ্লোরিডায় পৌঁছেছে সেমিফাইনালের হতাশাজনক পরাজয়ের ক্ষত নিয়ে। আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় মিয়ামি, ফ্লোরিডার হার্ড রক স্টেডিয়ামে দুদলের লড়াই শুরু হবে।
ফ্রান্স প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনের কৌশল ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কাছে ২–০ গোলে পরাজিত হয়ে ফাইনালের রেস থেকে ছিটকে যায়। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তের দুই গোল হজম করে ২–১ ব্যবধানে নাটকীয় ও হৃদয়বিদারক পরাজয় বরণ করে।
দুই দলের ফুটবলীয় দ্বৈরথ এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। তবে বিশ্বমঞ্চে তাদের সর্বশেষ হাই–ভোল্টেজ ম্যাচটি হয়েছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে ফ্রান্স ২–১ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করেছিল। ম্যাচটির আকর্ষণ হচ্ছে গোল্ডেন বুটের জমজমাট লড়াই। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে বর্তমানে ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুট রেসের শীর্ষস্থানে রয়েছেন। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম উভয়েই ৬টি করে গোল নিয়ে এমবাপ্পেকে তাড়া করছেন। যেহেতু শিরোপা জেতার সুযোগ আর নেই, তাই দুই দলের কোচই স্কোয়াডের বেঞ্চের খেলোয়াড়দের বাজিয়ে দেখতে পারেন। তবে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের কারণে দুই দলের মূল স্ট্রাইকারদের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
ফ্রান্স শিবিরে ইনজুরির কারণে উইলিয়াম সালিবা (পিঠের সমস্যা) এবং ব্রিস সাম্বা (কাফ ইনজুরি) এই ম্যাচে স্কোয়াডের বাইরে থাকছেন। ইংল্যান্ড শিবিরে জর্ডান হেন্ডারসন কবজির ইনজুরির কারণে খেলছেন না এবং ডিফেন্ডার রিস জেমসের খেলা নিয়েও সংশয় রয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ইংল্যান্ডের চেয়ে ফ্রান্স মানসিকভাবে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। ইংল্যান্ড যেখানে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে সেমিফাইনাল হেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, সেখানে ফ্রান্স একদিন বেশি বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছে। বুকমেকারদের চোখেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও সামপ্রতিক বিশ্বকাপ রেকর্ডের কারণে ফ্রান্স এই ম্যাচে কিছুটা এগিয়ে থেকে মাঠে নামবে।
দুদলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে ফ্রান্স ছয়টিতেই জিতেছে, যেখানে ইংল্যান্ড দুবার জিতেছে এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সেমিফাইনালে এমবাপ্পে ও তার দল যতটা হতাশাজনক পারফর্ম করেছে, এই ম্যাচে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর পক্ষে। সাত ম্যাচে মাত্র দুটি ক্লিন শিট রাখা ইংলিশ রক্ষণভাগের বিপক্ষে এমবাপ্পে সম্ভবত সুযোগ পাবেন। ইংল্যান্ড সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবে না। তৃতীয় স্থান দখলের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড জয়ের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল সেমিফাইনালে পরাজয়ের পর বলেন, আমাদের এবং ফ্রান্সের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চায়। সেখানে ওঠার জন্য আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। প্রত্যেকেই বিশ্বকাপ জিততে চায়, কিন্তু বাস্তবতা এটাই। ফ্রান্সের তুলনায় আমাদের বিশ্রামের জন্য একদিন কম সময় মিলেছে। তবুও আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গেই ম্যাচটি খেলব।
এদিকে সেমিফাইনালে হারের পর দেশ্যম বলেন, তৃতীয় স্থান অর্জনের সুযোগ এখনো আছে। তাই সেটি জিততে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম বা আশা করেছিলাম, সেখানে নেই। আমাদের হতাশার মাত্রা আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। কিন্তু এটাকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।











