শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতেই বিদ্যালয়ের পরিচিত আঙিনায় একে একে জড়ো হতে থাকেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের কাছে পেয়ে কেউ জড়িয়ে ধরেন, কারও চোখে আনন্দাশ্রু। হাসি, গল্প আর স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত রাঙ্গুনিয়ার ঐতিহ্যবাহী বেগম ইকবাল জাকির হোসাইন (বিআইজেডএইচ) বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এভাবেই শুরু হয় ‘প্রথম পুনর্মিলনী–২০২৬’। ‘শিকড়ের টানে, প্রাণের বন্ধনে’ প্রতিপাদ্যে বেগম ইকবাল জাকির হোসাইন গার্লস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ পুনর্মিলনীতে মিলন ঘটে প্রবীণ ও নবীন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের। জাতীয় পতাকা ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পতাকা উত্তোলন, প্রাত্যহিক সমাবেশ এবং শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর কেক কাটা, কবুতর ও বেলুন ওড়ানো এবং প্রবীণ শিক্ষক নুরুল হক মাস্টারের মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের পর বের করা হয় বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রা শেষে বিদ্যালয় মাঠে দিনভর চলে স্মৃতিচারণ, গান, নাচ ও প্রাণবন্ত আড্ডা।
অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এ কে এস খান হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামানজার শামা খান। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও বিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অঞ্জনা রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন মোস্তফা খাতুন সালেহ্, দৌলাতুন নেছা, ফরিদা বেগম, জয়শ্রী চৌধুরী রেবা ও রত্না রানী রাহা।
অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ড্রাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুতুন নেছা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ক্লিপটন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. এম মহিউদ্দীন চৌধুরী, শেভরন আই হসপিটালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. এম এ করিম, রাঙ্গুনিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ছরোয়ার ছালেক সিকদার, বিআইজেডএইচ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কান্তি শীল এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল গফুর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সচিব ভিক্টোরিয়া বড়ুয়া ও অর্থসচিব শারমিন আকতার। দীর্ঘদিন পর প্রিয় বিদ্যাপীঠে ফিরে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ফিরে পান ফেলে আসা দিনের স্মৃতি। পুরোনো বন্ধন নতুন করে জোড়া লাগানোর এ আয়োজন তাদের মনে ছড়িয়ে দেয় আনন্দ ও নতুন উদ্দীপনা।












