সালিশে অপমানের পর গলায় ফাঁস, ৯ দিন পর গৃহবধূর মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নে সালিশি বৈঠকে ‘অপমানের পর’ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক গৃহবধূর ৯ দিন পর মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অঞ্জনা দাস (৪৫) মারা যান। তিনি পূর্ব চন্দ্রঘোনা হিন্দুপাড়ার কাঞ্চন দাস ওরফে লাল সাধুর স্ত্রী। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে অঞ্জনা দাসের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন তার স্বামী কাঞ্চন দাস। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠক বসে। বৈঠকে স্থানীয় সালিশকারীদের সামনে এক যুবকের সঙ্গে অঞ্জনার কিছু ছবি ও ভিডিও দেখানো হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে সালিশের মধ্যে অঞ্জনাকে অপমানিত হতে হয় বলে স্বজনদের দাবি। পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই ঘটনার পর গত ৪ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন অঞ্জনা। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, সালিশি বৈঠকে প্রকাশ্যে ছবিভিডিও দেখিয়ে অঞ্জনাকে অপমান করার ঘটনাই তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তবে তার আত্মহত্যার চেষ্টার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে সালিশে অপমানের ঘটনার সম্পর্ক তদন্তের বিষয়। এ ঘটনায় এলাকায় প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আত্মহত্যার চেষ্টার কারণ উদঘাটন এবং এর পেছনে কারও প্ররোচনা বা সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. জহির উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযোগেশ চন্দ্র সিংহ : যুগের মনীষীকে শ্রদ্ধায় স্মরণ
পরবর্তী নিবন্ধকাবিননামায় পূর্বের ও বিদ্যমান বিয়ের তথ্য সংযুক্ত করা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল