সালমান রুশদি ভেন্টিলেটরে কথা বলতে পারছেন না

ছুরি মারা এই হাদি মাতার কে

| রবিবার , ১৪ আগস্ট, ২০২২ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের এক অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছুরি হামলার শিকার হওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদির খবর ভালো নয় বলে জানিয়েছেন তার বইয়ের এজেন্ট। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে অঙ্গরাজ্যটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শাটাকোয়া ইনস্টিটিউটের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন বুকারজয়ী এই লেখক। যখন তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখনই এক লোক দৌড়ে স্টেজে উঠে ছুরি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। খবর বিডিনিউজের।
৭৫ বছর বয়সী রুশদির ঘাড়ে ও শরীরে জখম হয়েছে বলে নিউ ইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার ঘাড়ে ও পেটে অন্তত একবার করে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আহত রুশদি পেনসেলভেইনিয়ার ইরি হাসপাতালে আছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কয়েক ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় রুশদিকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়।

তার বইয়ের এজেন্ট অ্যান্ড্রু ওয়াইলি জানিয়েছেন, রুশদিকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে এবং তিনি কথা বলতে পারছেন না। এই লেখক এক চোখ হারাতে পারেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি এক চোখ হারাতে পারেন। তার বাহুর স্নায়ু বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তার যকৃতেও ছুরির আঘাত লেগেছে আর তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৯৮৮ সালে প্রকাশিত স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাসের জন্য তিন দশকের বেশি সময় ধরে হত্যার হুমকি পেয়ে আসছিলেন এর লেখক রুশদি।

আহমেদ সালমান রুশদির জন্ম ১৯৪৭ সালে মুম্বাইয়ে এক কাশ্মীরি মুসলিম পরিবারে, ভারত ভাগের ঠিক আগে আগে। ১৯৮১ সালে তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ প্রকাশিত হলে লেখক হিসেবে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

ছুরি মারা কে এই হাদি মাতার : এ ঘটনায় পুলিশ হাদি মাতার নামের এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সে নিউ জার্সির ফেয়ারভিউয়ের বাসিন্দা। সে একটি পাস কিনে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেছিল। ২৪ বছর বয়সী এই যুবক নিউ জার্সি থেকে নিউ ইয়র্কে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

মাতারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে তিনি যে শিয়া উগ্রবাদী এবং ইরানের ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রতি সহানুভূতিশীল সে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মাতার ও আইআরজিসির মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া না গেলেও মাতারের মোবাইল ফোনের ম্যাসেজিং অ্যাপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলেমানি ও ইরানি শাসকদের প্রতি সহানুভূতিশীল এক ইরাকি উগ্রপন্থির ছবি পাওয়া গেছে। রুশদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ। মাতারের জাতীয়তা ‘এখনও অজানা’।

পুলিশ শাটাকোয়া ইনস্টিটিউটের অনুষ্ঠানস্থল থেকে একটি ব্যাকপ্যাক ও কিছু ইলেকট্রনিঙ ডিভাইস উদ্ধার করেছে। এখন সেগুলো পরীক্ষার জন্য একটি সার্চ ওয়ারেন্ট পাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে তারা। রুশদির ওপর হামলায় মাতার একাই ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।