সহিংসতার চেষ্টা করলে ওদের রাজপথে নামতে দেব না

নগর আওয়ামী লীগের সমাবেশে নাছির

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ২২ আগস্ট, ২০২২ at ৭:১১ পূর্বাহ্ণ

ইতিহাসের নৃশংসতম গ্রেনেড হামলার মূল হোতা ও সহযোগীদের আদালতের রায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বিশাল জনসমাবেশে বক্তারা বলেছেন, এ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিষবাষ্প ছড়ানোর জন্য বিএনপি-জামাতই দায়ী। এই বিএনপি-জামাতই এ দেশে জঙ্গিবাদের জন্ম দিয়েছে। তারা তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সকল শীর্ষ নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলো। তাদের সেদিনের প্রধান টার্গেট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও সেই নারকীয় হামলা কেড়ে নেয় ২৪ তাজা প্রাণ। আহত হন আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী। গ্রেনেড হামলার মূল হোতা ও সহযোগীদের আদালতের রায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান নেতারা।
গতকাল ২১ আগস্ট রোববার বিকেলে পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা এই দাবি জানান।
সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেছেন, ‘বিএনপি-জামাতের ষড়যন্ত্র চলছে-চলবে-আমরা বিচলিত নই। আমরা জাতে মাতাল-তালে ঠিক।’ এই চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ-আমরা সবাই এক ও ঐক্যবদ্ধ। বিএনপি-জামাত আর যদি মাঠে নেমে সহিংসতা করতে চায়, তাহলে তাদের আর এই চট্টগ্রামের রাজপথে নামতে দেব না।
এখন সারা পৃথিবীতে যখন দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে এই দেশের সাধারণ মানুষ ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে সরকার সম্পর্কে বিভ্রান্ত করে তাদেরকে ক্ষেপিয়ে তুলে তাদের রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে তারা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই মুহূর্তে আমরা যারা আওয়ামী লীগের কর্মী আছি, শেখ হাসিনার কর্মী আছি, আমাদের উচিত সকল প্রকার সংকীর্ণতা পরিহার করা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করা। আমাদের চিন্তার মধ্যে ভিন্নতা আছে বলে মনে করি না। আমাদের লক্ষ্য এক এবং অভিন্ন। আমাদের শক্তি হলো-সংগঠন। আমরা আওয়ামী লীগকে যত বেশি সংগঠিত করতে পারবো, জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবো, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবো, তখনই আমরা শক্তিশালী হবো এবং নিরাপদ হবো।
আজম নাছির উদ্দীন আরো বলেন, হাওয়া ভবনে বেগম জিয়ার পুত্র তারেক জিয়া তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গ্রেনেড হামলায় প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণকারীদের সাথে বৈঠক হয়েছিল, এমনকি ওই হাওয়া ভবন থেকে গ্রেনেড হামলার মূল পরিকল্পনাটি সরাসরি মনিটরিং করা হচ্ছিল। পরে ঘটনাকে আড়াল করতে জজ মিয়া গল্প সাজানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডির অসম্পূর্ণ মিশন সমাপ্ত করতেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। এই গ্রেনেড হামলার পেছনে যে অসৎ উদ্দেশ্যটি ছিল তা হলো-বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার নিশ্চিহ্ন করা ও আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করা। তাদের এই অসৎ উদ্দেশ্য পূর্ণ না হওয়ায় তারা অতৃপ্ত। এ জন্য তাদের মুখ থেকে ১৫ আগস্ট ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটানোর প্রকাশ্যেই সংকেত দেওয়া হয়।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ হাসনীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন নঈম উদ্দিন চৌধুরী, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, বদিউল আলম, সফর আলী, আবদুচ ছালাম, নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, শফিকুল ইসলাম ফারুক, হাসান মাহমুদ শমসের, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, মশিউর রহমান চৌধুরী, জালাল উদ্দীন ইকবাল, দিদারুল আলম চৌধুরী, জোবাইরা নার্গিস খান, ইঞ্জিনিয়ার মানস রক্ষিত, চন্দন ধর, মোহাম্মদ হোসেন, জহুর আহমেদ, আব্দুল আহাদ, মোঃ আবু তাহের, মোঃ শহিদুল আলম, মোঃ মোরশেদ আক্তার চৌধুরী, সৈয়দ আমিনুল হক, গাজী শফিউল আজিম, মহব্বত আলী খান, বখতেয়ার উদ্দীন খান, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, এড. কামাল উদ্দীন আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার বিজয় কৃষাণ, জাফর আলম চৌধুরী, আব্দুল লতিফ টিপু, মোঃ ইলিয়াছ, মোঃ জাবেদ, বেলাল আহমদ, মোঃ হারুনুর রশিদ, কাজী আলতাফ হোসেন, মোঃ মোমিনুল হক, টিংকু বড়ুয়া, সিদ্দিক আহমদ, মোঃ আতিকুর রহমান, সৈয়দ মোঃ জাকারিয়া, মোঃ সলিম উল্লাহ বাচ্চু, সিদ্দিক আলম, ফিরোজ আহমদ, সাহাব উদ্দীন আহমেদ, সুলতান আহমদ চৌধুরী, মোঃ আবু তাহের, মোঃ আনছারুল হক, আবু তাহের, অধ্যাপক আসলাম হোসেন, মোঃ ইলিয়াছ, রেজাউল করিম কায়সার প্রমুখ। সভার শুরুতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।