সভাপতির ব্যাখ্যা চায় চবি শিক্ষক সমিতির ৩ সদস্য

উপাচার্যকে চিঠি

চবি প্রতিনিধি | রবিবার , ২৬ মার্চ, ২০২৩ at ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ

নিয়োগ বাণিজ্যে অনিয়ম খতিয়ে দেখা, সিন্ডিকেটে তিন ক্যাটাগরির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ চার দফা দাবিতে উপাচার্যকে দেয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষক সমিতির চিঠির ব্যাখ্যা চেয়েছেন শিক্ষক সমিতির তিনজন সদস্য। তাদের দাবি সেই চিঠিতে যথাযথ আলোচনা হয়নি। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমকে পাঠানো এক চিঠিতে এমন ব্যাখ্যা চাওয়া হয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকীর কাছে। ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠিতে স্বাক্ষর করেন শিক্ষক সমিতির সদস্য প্রফেসর ড. রকিবা নবী, প্রফেসর ড. দানেশ মিয়া ও প্রফেসর ড. ফরিদুল আলম। চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষক সমিতির নামে শুধুমাত্র সংখ্যাতত্ত্বের মাধ্যমে আমরা যা কিছু বলতে ও লিখতে পারি না। গত ২০ মার্চ উপাচার্য বরাবর প্রেরিত চিঠির ভাষা, শব্দচয়ন, অপব্যাখ্যা ও বিষয়বস্তু কতটুকু সমিতির ঐতিহ্য ও কার্যপরিধির মধ্যে পড়ে তা নিয়ে আপনার (শিক্ষক সমিতির সভাপতি) দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ও নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর ব্যাখ্যা দাবি করছি।

চিঠিতে নয়টি পয়েন্ট উল্লেখ করে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় সমিতির সভাপতির কাছে। ৯ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়সভার সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে ইতোমধ্যে এই চিঠির কিছু বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে আমরা মনে করি। তাছাড়া কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ এবং ইনস্টিটিউটে এর প্রচার করা হয়েছে, যা শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে আমারা মনে করি। ৮ নং পয়েন্টে বলা হয়, উপাচার্যকে চিঠিটি পেশ করার পূর্বে এর খসড়া নিয়ে কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের সাথে কোনো আলোচনা করা হয়নি বিধায় পেশকৃত চিঠিটি আমাদের সকলের বক্তব্যের প্রতিফলন নয়। সবশেষে বলা হয়, উপাচার্যকে দেয়া চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে আমরা বিব্রত। উপরোক্ত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে আমাদের বিভ্রান্তি দূর করবেন।

এর আগে গত ২০ মার্চ চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর আবদুল হক স্বাক্ষরিত একটি যৌথ বিবৃতি দেয়া হয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারকে। বিবৃতিতে চবি প্রশাসনের সিন্ডিকেটে অবশিষ্ট ক্যাটাগরির (ডিন, প্রভোস্ট, একাডেমিক কাউন্সিল ইত্যাদি) শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা। নিয়োগ বাণিজ্য সংক্রান্ত অডিও কেলেঙ্কারিতে যুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। বিজ্ঞাপিত পদের অতিরিক্ত কিংবা বিভাগের পরিকল্পনা কমিটির সুপারিশ ছাড়া বিজ্ঞপ্তি দেওয়া ও বাতিল আবেদনকারীদের নিয়োগের সুপারিশ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের সুরাহা করার ব্যাপারে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হয়। সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে আন্দোলনের হুশিয়ারি দেয়া হয় বিবৃতিতে।