সন্দ্বীপে বর্তমানে সীমিত পরিসরে কাঠের তৈরি পণ্যবাহী ও ফিশিং ট্রলার, জেলেদের ছোট ছোট মাছ ধরার ট্রলার নির্মাণ হচ্ছে। তবে সন্দ্বীপ জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের সাথে যুক্ত হওয়ায় এ শিল্পকে ঘিরে আরও বৃহৎ স্বপ্ন দেখছেন অনেকেই। কারণ একেকটি পণ্যবাহী ট্রলার ও ফিশিং ট্রলার নির্মাণ করতে খরচ হয় অর্ধ লক্ষ থেকে কোটি টাকা। তবে বিদ্যুতের সুবিধা পেলে এ খরচ আরো অনেক কমে যাবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারলে শ্রমিকদের দ্রুত কাজ করতে সুবিধা হবে। এছাড়া বিদ্যুতের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভালো মানের স-মিল টিম্বারের গড়ে তোলা গেলে চট্টগ্রাম থেকে কাঠের নির্ভরতাও কমে যাবে।
সন্দ্বীপের রহমতপুরের বাসিন্দা ও ফুড কর্মকর্তা আকবর হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, প্রাচীনকালে এ দ্বীপটির পরিচিতি ছিল জাহাজ নির্মাণশিল্পের জন্য। পাশাপাশি ফিশিং বোট হিসেবে এবং পণ্য বহন কাজে সমাদৃত ছিল কাঠের নির্মিত বোট বা ট্রলার। কালের পরিক্রমায় এ কাঠের নির্মিত বোটগুলো সংস্করণ হয়েছে নানা রুপে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যায়নি এ শিল্পটি বরং ব্যবহার বেড়েছে আরো নানান কাজে। দ্বীপের দৃষ্টি সীমানাজুড়ে দেখা যায় নানা রকমের ফিশিং এবং পণ্যবাহী ট্রলার। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ফেলে কাঠের নির্মিত এ শিল্পের যৌবনে নতুন করে জোয়ার আসবে বলে আশা করা যায়।
সন্দ্বীপ পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী ওয়াহিদুল আলম পারভেজ এ বিষয়ে আশা প্রকাশ করে বলেন, শুধু কাঠের তৈরি ট্রলার নয় সন্দ্বীপের শিল্পপতি যারা ঢাকা চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত এবং প্রবাসী উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে সন্দ্বীপে এ শিল্প আরও বৃহৎ আকারের রূপ নিবে।
চাক্তাই থেকে সন্দ্বীপ ও খুলনা নৌরুটে মালামাল পরিবহন করে মোহাম্মদ তৈয়ব উদ্দিনের চারটি কাঠের তৈরি ট্রলার। তিনি বলেন, আমাদের প্রথম ট্রলারসহ কয়েকটি ট্রলার সন্দ্বীপের পশ্চিমে সাগর পাড়েই নির্মাণ করেছি। তখন অবশ্য বিদ্যুতের সুবিধা ছিল না। এখন বিদ্যুত যুক্ত হওয়ায় সন্দ্বীপেই কম খরচে ট্রলার নির্মাণ ও ডকইয়ার্ড স্থাপনের মাধ্যমে মেরামত করা যাবে। সন্দ্বীপে ডকইয়ার্ডের সুবিধা না থাকায় প্রতিবছর আমাদের কাঠবডি ট্রলারগুলো চট্টগ্রামের ডক থেকে মেরামত করে নিতে হয়।
দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে কাঠের তৈরি ট্রলার নির্মাণ কাজের সাথে জড়িত সেলিম উদ্দিন মিস্ত্রি। তিনি জানান, ট্রলার নির্মাণ করতে গিয়ে আমরা চট্টগ্রাম-কঙবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছি। সন্দ্বীপে যদি বিদ্যুতের সুবিধাকে কাজে লাগানো যায় সেক্ষেত্রে একেকটা ট্রলার নির্মাণে কমপক্ষে একশত শ্রমিকের পারিশ্রমিক কম লাগবে। এছাড়া বড় সাইজের কাঠের আকার আকৃতি ঠিক করে আনার জন্য চট্টগ্রামের টিম্বারের উপর যে নির্ভরতা সেটিও থাকবে না। সেক্ষেত্রেও নির্মাণ খরচ অনেকাংশে কমে যাবে বলে আমরা আশাবাদী। অর্থাৎ এখন যেখানে একেকটা ট্রলার নির্মাণে ৬০/৭০ লাখ টাকার মতো খরচ হয় সেটা কমে ৫০ লাখের মধ্যে চলে আসবে।
সন্দ্বীপের সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা বলেন, এখানে একসময় জাহাজ নির্মাণের জন্য বিখ্যাত ছিল। এখন ব্যক্তিগত উদ্যোগে সীমিত পরিসরে ট্রলার নির্মাণ করা হয়। তবে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কেউ যদি আরো বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে জাহাজ, ট্রলার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সেক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ সহযোগীতা থাকবে। জমি লিজ নেয়া থেকে শুরু করে সব সুবিধা নিশ্চিত করা হবে আমাদের তরফ থেকে।












