মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে দেওয়ার পর ইউরোপিয়ান কমিশন গত বছর স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির সব শর্ত অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে। শুক্রবার মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্টে আরোপ করা শুল্ককে প্রেসিডেন্টের এখতিয়ার বহির্ভূত আখ্যা দিয়ে বাতিল করে দেয়। খবর বিডিনিউজের।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাম্প অন্য আইনে সব আমদানি পণ্যে অস্থায়ীভাবে নতুন ১০% শুল্ক বসান, একদিন পরেই তা বেড়ে হয় ১৫%। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি সদস্য দেশের হয়ে বাণিজ্য নীতি সামলানো কমিশন রোববার বলেছে, আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। এখনকার পরিস্থিতি গত বছরের বাণিজ্য চুক্তির শর্তসমূহ হাজির করা যৌথ বিবৃতিতে উভয় পক্ষ যে ন্যায্য, সুষম ও পারস্পরিক লাভজনক ট্রান্সআটলান্টিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে অনুকূল নয়। কিন্তু চুক্তি তো চুক্তিই, কমিশন এমনটাই বলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। কমিশনের এবারের বার্তা শুক্রবারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার তুলনায় বেশ কড়া। সেদিন রায়ের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এ নির্বাহী বিভাগ বলেছিল, তারা সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ফলাফল খতিয়ে দেখছে এবং মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ’র মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ পণ্যে ১৫% মার্কিন শুল্ক ধার্য হয়েছিল। তবে ইস্পাতসহ যেসব ক্ষেত্রে খাতওয়ারি আলাদা শুল্ক ছিল, সেগুলো ওই ১৫ শতাংশ শুল্কের বাইরে ছিল। চুক্তিতে ইইউ এয়ারক্রাফট ও খুচরা যন্ত্রাংশের মতো অনেক পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে বিনা শুল্কে পাঠানোরও সুযোগ পেয়েছিল। এর বিনিময়ে ইইউ অনেক মার্কিন পণ্যের আমদানি শুল্ক তুলে নিতে রাজি হয় এবং পাল্টা বেশি শুল্ক দেওয়ার হুমকি প্রত্যাহার করে নেয়।
সুনির্দিষ্টভাবে বললে, প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে ইইউ পণ্যের সুবিধাপ্রাপ্তি অব্যাহত থাকতে হবে। আগে সব পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের যে সর্বোচ্চ সীমা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছিল, শুল্ক তার চেয়ে বেশি বাড়ানো যাবে না, বলেছে ইইউ কমিশন। শুল্ককে ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও আস্থা কমাবে বলেও মত তাদের। বিষয়টি নিয়ে ইইউ বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচ শনিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির ও বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন, বলেছে তারা।










